ঠাকুরগাঁওয়ের “ভুল্লির বাঁধ”।। যেন এক স্বপ্নের সমুদ্রসৈকত

আল-মনসুর,ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:

ঠাকুরগাঁও সদরের বালিয়া ইউনিয়নের “ভূল্লি বাঁধ” এখন ভ্রমণপিপাসুদের কাছে পরিচিতি পেয়েছে ‘মিনি কক্সবাজার’ হিসেবে। যেটি ১৯৯৬ সালে কৃষি সেচ ব্যবস্থার জন্য নির্মাণ করা হয়। জেলা শহরের কাছাকাছি নতুন এ পর্যটনস্থানটি এরই মধ্যে ভ্রমণপিয়াসুদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

উত্তরাঞ্চলে কোনো সমুদ্র নেই, তাই এ অঞ্চলের মানুষের কাছে সমুদ্রসৈকত এক স্বপ্ন। এ ছাড়া কক্সবাজারসহ দেশের ঐতিহাসিক প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলোতে ঠাকুরগাঁও থেকে যাওয়াটা অনেক সময় সাপেক্ষের ব্যাপার। তবে ঠাকুরগাঁওয়ের এ বাঁধটি এখন সমুদ্রের অভাব অনেকটাই পূরণ করছে এই এলাকার ভ্রমণপিয়াসু মানুষদের। এ বাঁধের জলরাশি আর ঢেউ যে কারো মন নিমেষেই ভালো করে দেয়ার মত। দিনে গিয়ে দিনেই ফিরে আসা যায় বলে পরিবার, বন্ধু-বান্ধব ও শিক্ষার্থীদেরকে নিয়ে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই এখানে পিকনিক করতে আসছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, কেউ বাঁধের পানিতে লাফাচ্ছে, কেউ আবার বাঁধের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করছে। বাঁধটিতে কক্সবাজারে আদলে সবাই আনন্দ-ফুর্তিতে মেতে উঠেছে। কোলাহলপূর্ণ শহরে যখন দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা, ঠিক তখন শহুরে জীবন ছেড়ে মানুষ ছুটতে চায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের খোঁজে।

বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে বাঁধের সৌন্দর্য মন কাড়ে সে কারণে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের। অনেকে এ বাঁধকে আখ্যায়িত করেন মিনি কক্সবাজার হিসেবে। জলরাশির ছোট ছোট ঢেউ বাঁধের সৌন্দর্য উপভোগে অনেকেই আসেন স্থানটিতে।

আর গরমের এ সময়টিতে এ বাঁধে সবচেয়ে বেশি মানুষের ভিড় হয়। আগতরা সেলফি বা ক্যামেরায় ছবি তুলে সুন্দর সময়টি ক্যামেরাবন্দি করে রাখে। প্রাইভেট কারে সুজন-শারমিন দম্পতি ও তাঁদের এক মেয়ে বাঁধে বেড়াতে আসেন। এ দম্পতির সঙ্গে কথা বলে জানা যায় যে তাঁরা পঞ্চগড় থেকে এসেছেন। তাঁরা জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক থেকে এ স্থানটি সম্পর্কে জানতে পারেছি।

এখানে বেড়িয়ে পরিবারটি বেশ উচ্ছাস প্রকাশ করেন। আগত পর্যটকদের জন্য এরই মধ্যে বাঁধের পার্শ্ব এলাকায় ছোট খাবারের দোকান গড়ে উঠেছে। সব মিলিয়ে এমন একটি বিনোদন কেন্দ্রকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার জন্য ভ্রমণপিপাসু পর্যটকদের দাবি। তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন লেখনির মাধ্যমে প্রশাসনের কাছে এ দাবি জানিয়েছে। ঠাকুরগাঁও শহর থেকে ১৩ কিলিমিটার উত্তরে খোশ বাজার মাদ্রাসা সংলগ্ন রাস্তা দিয়ে পশ্চিমে ১ কিলোমিটারে মধ্যে বাঁধের অবস্থান।

Share Button