নাগেশ্বরীর নারায়ণপুরে ঢাকা ফেরতদের অবাধ চলাফেরা।। বাড়ছে করোনার ঝুঁকি

ওমর ফারুক:

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়ন। চারপাশেই নদী বেষ্টিত এই চরাঞ্চলীয় এলাকায় শিক্ষার হারও অনেকটা কম। ফলে সেখানকার লোকজনের মাঝে নেই তেমন সচেতনতা। বর্তমান করোনা ভাইরাসেও তাদের মাঝে দাগ কাটছে না কোনোভাবেই। তাদের মাঝে নেই করোনার ভয়। অসচেতনতায় জনসমাগম দিন দিন বেড়েই চলছে গ্রাম গুলোতে। বিশেষ করে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, সাভার, চট্টগ্রাম, সিলেট, মানিকগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিনিয়ত ¯্রােতের মতোই ভেসে আসছে শত শত লোক। চরবেরুবাড়ী, কালারচর, মাদারগঞ্জ, যাত্রাপুরসহ অন্যান্য ঘাটে নৌকায় উঠে গাদাগাদি করে আসছেন এসব লোকজন। ছড়িয়ে ছিটিয়ে অবস্থান করছেন নারায়ণপুর ইউনিয়নের সকল গ্রামেই। গ্রামে ঢুকেই অবাধে ঘুরে বেড়াচ্ছেন হাট-বাজার ও লোকালয়ে। নিত্য দিনের এমন চিত্র চৌদ্দঘুড়ি, ঝাউকুটি, মাঝিয়ালি, মোল্লাপাড়া, সরকারপাড়া, কাজীরচর, বাঘমারা, ডাক্তারপাড়া, কালারচরসহ প্রায় সকল গ্রামেরই।

বিকেল বা সন্ধ্যা হলেই গ্রামের হাট-বাজারগুলোতে শুরু হয় উৎসবের আমেজ। এসব এলাকার মানুষের এমন অবাধ চলাফেরায় বাড়ছে করোনার ঝুঁকি। এসব চরাঞ্চলে ইউপি সদস্যরা সচেতনতার ব্যাপারে কাজ করলেও তাদের কথা শুনছেন না অধিকাংশ মানুষ। এদিকে চেয়ারম্যান খুব একটা এলাকায় অবস্থানও করেন না বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের। স্থানীয়রা জানায় নদী পাড়াপাড় হওয়ার ঝামেলা থাকায় পুলিশ প্রশাসনও দুই তিনদিন পরপর এসে টইল দিয়ে যান। মানুষকে করোনা প্রতিরোধে সচেতন থাকতেও তাগাদা দেন তারা। কিন্তু পুলিশ নিয়মিত যেতে না পাড়ায় সেখানকার লোকজন অবাধে ঘোরাফেরা করার সুযোগ পায়। এমনকী কালারচর, পাখিউড়া, নারায়ণপুর নতুন বাজার, উত্তর ঢাকডহর বাজার, পদ্মারচরবাজারসহ প্রায় সকল বাজারই জমজমাটভাবেই বসে বলেও অভিযোগ তাদের। অধিকাংশ লোকজন মাস্কও পড়ে না। মানেন না সামাজিক দূরত্ব। চায়ের দোকানসহ অন্যান্য দোকানপাটগুলো খোলা থাকে বেশিরভাগ সময়। ফলে অধিকাংশ সময়ই চলে চায়ের আড্ডা, কেরাম খেলা এবং গল্পের আসর। যেনো দিন রাতের হিসেব নেই সেখানে। এতে করে চরম সংকটে পড়ার আসঙ্কা রয়েছে বলে জানান সচেতন মহল। তবে কেউ কেউ বলছেন আগের থেকে এখন অনেকটা সচেতন হচ্ছে মানুষ। করোনার আতঙ্ক বিরাজ করছে তাদের মাঝেও। অপরদিকে ত্রাণের ব্যবস্থাও সেখানে তেমনটা নেই বলেও অভিযোগ তোলেন নি¤œ আয়ের মানুষ। তাদের দাবি কাজ না করলে পেটে ভাত যায় না তাদের। স্ত্রী সন্তানদের না খেয়ে দিন কাটাতে হবে। তাই বাইরে বের হতে না দিলে খাবারের ব্যবস্থাও করা হোক।

কালারচর এলাকার শিক্ষক রুহুল আমিন বলেন, চরাঞ্চলের এলাকা হওয়ায় এখানকার মনুষের সচেতনতা কিছুটা কম। এখন মোটামুটি অনেকটা সতর্ক হচ্ছে। মেম্বার, চৌকিদাররা করোনার ব্যাপারে লোকজনকে সচেতনাকার বার্তা দিয়ে যাচ্ছে। তবে এখানে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি ঢাকা ফেরৎ লোকজন। তারা বিভিন্ন এলাকায় বিচরণ করছে। এজন্য প্রশাসনের আলাদা নজরদারী প্রয়োজন। আতাউর রহমান নামের এক ব্যাক্তি জানান, তারা বাড়িতেই থাকেন। তাই এ ব্যাপারে তেমনটা জানেন না তিনি।

নারাণপুর ইউপি চেয়ারম্যান মজিবর রহমান বলেন, ইউনয়নের পরিষদের পক্ষ থেকে যথাযথভাবে মাইকিংসহ নানাভাবে সতেনতা তৈরিতে কাজ করা হচ্ছে নিয়মিত। থানা প্রশাসন নিয়মিত বাজারগুলোতে তদারকি করছেন। এছাড়াও ইউনিয়ন পরিষদের চৌকিদারের মাধ্যমেও বাজারগুলোতে যাতে ভিড় না জমে এবং অপ্রয়োজনে যাতে কেই আড্ডাবাজী না করে সে ব্যাপারেও লক্ষ্য রাখা হচ্ছে। যারা ঢাকা থেকে এসছেন তাদেরকে বাইরে বের হওয়া বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আর নি¤œ আয়ের মানুষের জন্য ৩ ধাপে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
কচাকাটা থানার অফিসার ইনচার্জ হারুন-অর-রশিদ বলেন, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য, চৌকিদার, কমিউিনিটি পুলিশ এবং আমাদের থানা পুলিশের একটি টিম প্রতিনিয়ত নারাণপুরের এলাকাগুলো মনিটরিং করছে। যারা বাইরে থেকে এসছে তাদেরকে ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

Share Button