[তাজওয়ার আহমেদ তনয়, হাতীবান্ধা]
বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাস যে ভয়াল আকার নিয়েছে, তার মারাত্মক প্রভাব পড়েছে মানব জীবনের উপর ৷
করোনা আতঙ্ক স্বাভাবিক জীবন যাপনে ছন্দপতন ঘটেছে। সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে ঘর বন্দী হয়ে পড়ে থাকা স্কুল শিক্ষার্থী ও বাড়ির বয়স্কদের।
দেশে দেশে ছড়িয়ে পড়ছে এই মহামারি এর ভয়াল রূপ।যার ফলে মানবজীবন এর স্বাভাবিক কাজ যেন থেমে আছে। শীত প্রধান দেশ গুলোতে এর প্রকোপ বেশি। প্রাশ্চাত্যের উন্নত দেশগুলো তা নিয়ন্ত্রণ করতে হিমশিম খাচ্ছে। সেই পরিস্থিতিতে মানব জীবন যেন থমকে আছে।মাঠে চলছে না কৃষকের ঠিক মত কাজ , হচ্ছে না খেলাধুলা ও সম্মিলিত আড্ডাবাজী।কারো চলাফেরা নেই বললেই চলে। দেখে মনে হয় যে তাদের প্রত্যহিক জীবনে যেন স্থবির হয়ে আছে ।
লোকজন এর মাঝে নেই মধ্যে কোন কোলাহল, অযথা দোকানে খোশগল্প এবং অথবা তরুন দের আড্ডাবাজী । অন্যদিকে শিক্ষা – প্রতিষ্ঠানের কিশোর এবং যুবকেরা খেলা-ধুলায় নিমজ্জিত হতে আর দেখা যায় না।তারা সারাদিন বাসায় আবদ্ধ হয়ে থাকছে।ফলে তাদের মানসিক স্বাস্থ্যর দেখা দিচ্ছে নানা রকম সমস্যা।
সারাদিন ঘরে বন্দি থাকার ফলে সবাই টিভি এবং সামাজিক মাধ্যম এর উপর আসক্ত হয়ে যাচ্ছে।
ফলে তীব্র মানসিক চাপে আছেন সব মানুষ । মানসিক চাপ থেকে তাঁদের নানা শারীরিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
দেশের সব জায়গায় জরুরী অবস্থা ঘোষণা করেছে সরকার ।বিশেষ কোনো কাজ ছাড়া কাউকে বাইরে বের হতে দিচ্ছে না। সবাই যেন আছে এক রিরাট সমস্যার মধ্য।কাজের অভাবে দেশের প্রান্তিক মানুষরা খাবার পাচ্ছে নাহ ঠিক মত।করোনা শারীরিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করলেও আমরা অজান্তেই পড়ে যাচ্ছি মানসিক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে।আমাদের স্বাভাবিক মানসিক অবস্থাকে নানাভাবে বিপর্যস্ত করছে কেভিড-১৯ মহামারি । তবে ব্যক্তিবিশেষে এর প্রতিক্রিয়া ভিন্ন। অর্থাৎ আমাদের ব্যক্তিত্বের গঠনের ওপর এর মানসিক প্রতিক্রিয়া একেক রকম একেকজন এর উপর।
ঘরে থাকার ফলে দেখা দিচ্ছে চরম মাত্রাতিরিক্ত উদ্বেগ। উদ্বেগ আসলে তখনই ক্ষতিকারক, যখন সেটা মাত্রাতিরিক্ত হয় এবং আতঙ্কের পর্যায়ে চলে যায়।
সামাজিক মাধ্যম কিংবা টিভি এর প্রতি আসক্ত না হয়ে পরিবারের সঙ্গে গুণগত সময় কাটিয়ে, ধর্মীয় অনুশাসন পালন করে, বই পড়ে এবং ঘরের নানারকম কাজকর্ম করলে স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হবে না বলে দাবি করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
নয়াখবর/হাসান/এস
