পুনম শাহরীয়ার ঋতু:
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার শিল্পাঞ্চলের অধিকাংশ এলাকায় গত কয়েকদিন ধরে মাইকিং এবং পুলিশ ও সেনাবাহিনীর টহল জোড়দার করার পরও হাটবাজার পথে ঘাটে লোকজনের ভীড় কমাতে পারছে না। গত এক কয়েক সাপ্তাহ ধরে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মরণ ব্যাধি করোনা ভাইরাস সম্পর্কে হ্যান্ডবিল বিতরণ, মাইকিং এবং বাজারে বাজারে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা হলেও মানুষের মধ্যে কোন সচেতনা আসছে না। ফলে এই শিল্পাঞ্চলের করোনা ভাইরাসে বেশি আতংক হওয়ার উপক্রম হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে বলে সচেতনমহল ধারণাৃ করছে। তবে ওই সব বাজার, হাট, ঘাট রেলপথসহ চায়ের দোকানে এখই লোকজনের সামাজিক দ্রুত বজায় রাখতে না পারলে মহাবিপত্তি ঘটার সম্ভবনা রয়েছে। গত কয়েকদিন আগে উপজেলার শতাধিক পোশাক তৈরির কারখানা বন্ধ ঘোষণা করায় স্বল্প আয়ের শ্রমিকরা গ্রামের বাড়ীতে না গিয়ে ভাড়া বাড়ীতেই অবস্থান করছে। ফলে সন্ধ্যার পর ঘরে থাকলেও দিনের বেশিরভাগ সময় বাজার
কিংবা চায়ের দোকানে তাদের দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। তবে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, সেনাবাহিনীর সদস্যরা দিনে একাধিকবার টহল দিয়ে সাধারণ মানুষকে করোনা সম্পর্কে সামাজিক দ্রুত সম্পর্কে বুঝানোর চেষ্টা করলেও পরে তা আবার গা ঘেষাঘেষি করে কেনাকাটায় ভীড় করছে। সোমবার সকালে উপজেলা সফিপুর বাজার, কালিয়াকৈর বাজার, ফুলবাড়িয়া, বেনুপুর, মৌচাক, পল্লীবিদ্যূৎ, মাটিকাটা রেল পথ, রতনপুর রেলকক্রিং এলাকায় করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে কোন সামাজিক দ্রুত বজায় রাখছে না। কবীর, সফিক, আসলাম নামের কয়েকজন ক্রেতা জানান, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য ক্রয় করার
জন্য বাজারে এসেছি। এখন করোনায় আক্রান্ত হলে কি করার আছে ?
রতনপুর গ্রামের বাসিন্দা জাহিদ আল মামুন জানান, মাটিকাটা ও রতনপুর রেল ক্রসিং এলাকায় বিভিন্ন দোকানে মানুষের ভীড় লেগেই রয়েছে। এতে করোনা নামক সংক্রামকটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার সম্ভবনা বেশি রয়েছে। এ নিয়ে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি।বোর্ড মিল এলাকার শিক্ষক ফজলুল হক জানান, সারা পৃথিবীতে মহামারি করোনা ভাইরাসে মানুষ যেভাবে মারা যাচ্ছে তাদে আমাদের সামাজিক দ্রুত বজায় না রাখলে আমাদের মধ্যেও ভয়াবহতা দেখা দিতে পারে। তাই আমাদের করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে নিজে সুরক্ষা ও পরিবারের সদস্যদের রক্ষা করতে হবে।
কালিয়াকৈর থানার ওসি আলমগীর হোসেন মজুমদার জানান, উপজেলার বেশীরভাগ কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে লোকজন কমতে শুরু করেছে। হাট বাজারে লোক সমাগম কমাতে উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি পুলিশও কাজ করছে।কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী হাফিজুল আমিন জানান, জনসচেনতা বৃদ্ধিতে উপজেলার সর্বত্র বিভিন্ন প্রচার প্রচারনা চালানো হচ্ছে।
টহলের ব্যবস্থা করা হচ্ছে সবসময়। জন সমাগম কমাতে চেষ্টা অব্যাহত আছে।
