কুড়িগ্রামে মাদ্রাসা ছাত্রকে হত্যা ।। আসামী গ্রেপ্তার

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে প্রথম শ্রেণি পড়ুয়া মাদ্রাসা শিক্ষার্থী মো: শাকিল (১০) কে নির্মমভাবে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (৪ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টায় এ ঘটনা ঘটে। বিকেল সাড়ে ৪টায় চিলমারী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশ ঘাতক রেজাউল ইসলাম (৩৮) কে গ্রেপ্তার করেছে। রেজাউল ইসলাম একজন চিহ্নিত মাদকসেবী বলে এলাকাবাসী জানান।
পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাদকাশক্ত রেজাউল ইসলাম শিশু শাকিলকে তাদের বন্ধুদের সামনে নির্মমভাবে ইটের উপর মাথা রেখে ইট দিয়ে আঘাত করে মাথা থেথলিয়ে হত্যা করে। এসময় নিহতের সহপাঠী পুটিমারী কাজলডাঙ্গা গ্রামের বিজু মিয়ার পূত্র জাহিদ (১০) ও একই গ্রামের আনারুল ইসলামরে কন্যা সারা খাতুন (৯) আতংকে চিৎকার করতে থাকলে প্রতিবেশীরা এসে তাকে আটকানোর চেষ্টা করে। এসময় গ্রামবাসী রেজাউলকে ঝাপটে ধরে গাছে বেঁধে রেখে পুলিশে খবর দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শী রাফিয়াল (৩৮), যোবায়ের (১৮) ও হাফিজ উদ্দিন (৫৫) জানান, শিশুটি চিলমারী ইউনিয়নের পুটিমারী বহরের ভিটা গ্রামে অবস্থিত আলহাজ্ব মরহুম রজব উদ্দিন নূরাণী ও হাফিজিয়া মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং পাশর্^বর্তী হাটিথানা বাঁধরাস্তা সংলগ্ন আব্দুল কাদেরের পূত্র। সোমবার সকালে শাকিল মাদ্রাসায় গিয়ে সহপাঠীদের সাথে খেলছিল। এসময় মাদ্রাসার পাশর্^বর্তী মৃত: ছামসুল হকের পূত্র ঘাতক রেজাউল ইসলাম সেখানে উঁকিঝুঁকি মারলে শাকিল তাকে ভিতরে আসতে নিষেধ করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রেজাউল শাকিলকে ধরে মাদ্রাসার পাশে একটি চাতালে নিয়ে যায়। সেখানে প্রথমে শাকিলের দু’পা ধরে শূন্যে ঘোরাতে থাকে। এরপর তাকে চাতালে শুইয়ে ইটের উপর মাথা রেখে ইট দিয়ে নির্মমভাবে আঘাত করতে থাকে। এতে শিশুটি রক্তাক্ত যখম হয়। গুরুতর আহত শাকিলকে প্রথমে চিলমারী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসক তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে। সেখানেই দুপুরের দিকে তার মৃত্যু হয়।
চিলমারী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো: আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, নিহতের পিতা আব্দুল কাদের বাদী হয়ে একজনকে আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ঘাতক রেজাউল ইসলামকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। সন্ধ্যায় লাশ রংপুর থেকে চিলমারী থানায় এসে পৌঁছে। মঙ্গলবার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কুড়িগ্রাম মর্গে প্রেরণ করা হবে। ময়না তদন্ত শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।#

Share Button