তিস্তা পাড়ের ভূমিহীন লোকমান আলী ছড়াচ্ছেন শিক্ষার আলো

হাসানুজ্জামান হাসান,লালমনিরহাটঃ

তিস্তা পাড়ের শিশু শিক্ষার্থীদের কলরবে মুখরিত থাকে ভূমিহীন লোকমান আলীর কুটির। তেষট্টি বছর বয়সী লোকমান আলীকে কেউ ডাকেন দাদা কেউবা নানা। তার কাছে পড়তে আসে তিস্তা পাড়ের হতদরিদ্র পরিবারের শিশুরা। ভালোবাসা দিয়ে আদর দিয়ে লোকমান পড়ান তাদের। বিনা পারিশ্রমিকে তিনি শিক্ষার আলো ছড়ানোর মহৎ কাজটি করছেন ২০০৯ সাল থেকে

জ্ঞানের বাতিঘর লালমনিরহাটের গোবর্ধন বারোঘরিয়া চরের লোকমান দাদু। এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চরাঞ্চলের দরিদ্র শিশুদের বিনামূল্যে পাঠদান করে আসছেন তিনি। শিশুদের প্রতি লোকমান হোসেনের অকৃত্রিম ভালবাসাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও স্থানীয়রা।

লালমনিরহাটের গোবর্ধন বারোঘরিয়া চরের ৬৩ বছরের লোকমান হোসেন, শিশুদের ছড়িয়ে দিচ্ছেন শিক্ষার আলো। চরের যে শিশুটি পড়াশোনায় অমনোযোগী, যার আর্থিক সমস্যা রয়েছে, তাদের পড়ানোর ভার নিয়েছেন লোকমান। তবে এসবই করেন বিনা পারিশ্রমিকে।

লোকমান আলী তিস্তা পাড়ের হতদরিদ্র শিশুদের পাঠদানের পাশাপাশি তাদেরকে দিচ্ছেন কলম খাতা এমনকি পোশাকও। অবসরে বসে না থেকে ছুটে যান তিস্তা পাড়ের বাড়ি বাড়ি আর খোঁজ নেন শিশুদের পড়াশুনার।

চরম দারিদ্রতার কষাঘাতে ১৯৯৫ সালে তার স্ত্রী নুরবানু বেগম তাকে ছেড়ে চলে যান। চার সন্তানকে নিয়ে অনাহারে অর্ধাহারে কঠোর পরিশ্রম করে তাদেরকে শিক্ষিত করে তুলেছেন। পেটে ক্ষুধার জ্বালা নিয়ে কঠোর পরিশ্রমে সন্তানদের প্রতিষ্ঠিত করার সফলতা তাকে যুগিয়েছে অনুপ্রেরনা তাই চরের অবহেলিত শিশুদের শিক্ষিত করতে ক্রমাগত কাজ করে চলেছেন এ মানুষটি।

লোকমান দাদুর কাছে আনন্দ নিয়ে পড়তে আসে শিশুরা। আর শিশুদের প্রতি লোকমান দাদুর অকৃত্রিম ভালবাসাকে সাধুবাদ জানালেন স্থানীয়রাও। স্বাগত জানিয়েছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাও।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলছেন, লোকমান হোসেনের মতো সমাজের সচেতন মানুষেরা এগিয়ে এলে, কমবে ঝরে পড়া শিশুর সংখ্যা।

সমাজের শিক্ষিত ও বিত্তবানরা যা করতে পারেননি, অর্ধশিক্ষিত ও ভূমিহীন এ লোকমান আলী তা সম্ভব করে উচ্চ শিক্ষিত ও বৃত্তবানদের অবাক করে দিয়েছেন।

Share Button