কুড়িগ্রামে গ্রামীণ খেলাধুলায় মেতে উঠল মানুষ : ফিরল শৈশবের স্মৃতিতে

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:

মাঠজুড়ে হাসি-আনন্দ, কোথাও হাঁস ধরার হুল্লোড়, কোথাও তৈলাক্ত কলাগাছে ওঠার প্রতিযোগিতা। দর্শকদের করতালি আর অংশগ্রহণকারীদের উচ্ছ্বাসে উৎসবমুখর হয়ে উঠল কুড়িগ্রামের একটি গ্রাম। হারিয়ে যেতে বসা গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলায় মেতে উঠলেন শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে নানা বয়সী নারী-পুরুষ। ব্যস্ত জীবনের একঘেয়েমি ভুলে অনেকেই যেন ফিরে গেলেন শৈশবের সোনালি দিনগুলোতে।
রবিববার (৮ নভেম্বর) কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের ডাক্তারপাড়া গ্রামে দুর্বার তারুণ্য বাংলাদেশের উদ্যোগে এবং এসওএস পরিবার শক্তিশালীকরণ কর্মসূচি কুড়িগ্রামের সহযোগিতায় দিনব্যাপী এ আয়োজন করা হয়। সকাল থেকেই খেলা দেখতে আশপাশের গ্রামের মানুষের ঢল নামে। দিন শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।
আয়োজনে ছিল চোখ বেঁধে হাঁস ধরা, তৈলাক্ত কলাগাছে ওঠা, পানিতে বালিশ যুদ্ধ, হাড়িভাঙা, সাঁতার, বিস্কুট দৌড়, মারবেল দৌড় ও যেমন খুশি তেমন সাজোসহ নানা ধরনের মজার খেলা। প্রতিটি খেলায় অংশগ্রহণকারীদের উৎসাহ আর দর্শকদের উচ্ছ্বাসে তৈরি হয় এক প্রাণবন্ত পরিবেশ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উদ্বোধন করেন কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বেলগাছা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মাহাবুর রহমান, সদর উপজেলা বিএনপির সদস্য মাসুদুর রহমান নয়ন, রাশেদুজ্জামান বাবু, সিনিয়র সাংবাদিক ইউনুছ আলী, এসওএস পরিবার শক্তিশালীকরণ কর্মসূচি কুড়িগ্রামের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর মকলেছুর রহমান, ইউপি সদস্য আবুল হোসেন, দুর্বার তারুণ্য বাংলাদেশ কুড়িগ্রামের সভাপতি রেজওয়ানুল হক নুরনবী প্রমুখ।
এ সময় বক্তারা বলেন, মাদক, জুয়া, মোবাইল আসক্তি ও বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক ব্যাধি থেকে তরুণ প্রজন্মকে দূরে রাখতে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের বিকল্প নেই। গ্রামীণ খেলাধুলা শুধু বিনোদন নয়, এটি পারস্পরিক বন্ধন, সম্প্রীতি ও ঐতিহ্যেরও অংশ। তাই নতুন প্রজন্মের কাছে এসব খেলা ছড়িয়ে দিতে এমন আয়োজন নিয়মিত করা প্রয়োজন।
আয়োজকরা জানান, গত পাঁচ বছর ধরে গ্রামটিতে এ ধরনের আয়োজন করে আসছে। গ্রামীণ ঐতিহ্য ধরে রাখা, নতুন প্রজন্মের সঙ্গে হারিয়ে যেতে বসা খেলাধুলার পরিচয় করিয়ে দেওয়া এবং সামাজিক সম্প্রীতি বাড়ানোই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

Share Button