জাফর আহমেদ, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রাম পৌর টাউন হলের কেয়ারটেকার মনসুর আলী (৬০) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলার এজাহারনামীয় প্রধান আসামি মো. শাহ নেওয়াজ ওরফে সানিকে (৩২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো কাঁচিও উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (৮ নভেম্বর) রংপুর রেঞ্জ পুলিশের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি মোহাম্মদ আবদুল মাবুদের দিকনির্দেশনা ও তদারকিতে কুড়িগ্রাম থানা-পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে আসামিকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুর আনুমানিক ২টা ৪৫ মিনিটে ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা শেষে মনসুর আলী পৌর টাউন হলের হলরুম বন্ধ করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় তাঁর স্ত্রী মল্লিকা বেগম (৫৫) স্বামীর জন্য খাবার নিয়ে সেখানে যান।
এ সময় শাহ নেওয়াজ সানিসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জন হলরুমে প্রবেশের চেষ্টা করেন। কেয়ারটেকার মনসুর আলী তাঁদের বাধা দিলে কথা-কাটাকাটি ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে সানি কাগজ কাটার ধারালো কাঁচি দিয়ে মনসুর আলীর বুকের ডান পাশসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন বলে পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। স্বামীকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে মল্লিকা বেগমও আহত হন।
পরে গুরুতর আহত অবস্থায় দুজনকে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মনসুর আলীর মৃত্যু হয়। তাঁর স্ত্রী মল্লিকা বেগম বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে মোছা. সুমি বেগম বাদী হয়ে শাহ নেওয়াজ সানি ও অজ্ঞাতনামা ২-৩ জনকে আসামি করে কুড়িগ্রাম থানায় মামলা করেন। গত ৭ নভেম্বর দায়ের করা মামলাটির নম্বর ৯। দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৩০২, ৩২৩, ৩২৬ ও ৩৪ ধারায় মামলাটি রুজু করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার সানি কুড়িগ্রাম পৌরসভার হিঙ্গনরায় সরদারপাড়া এলাকার মো. জুলহাস আলমের ছেলে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
