কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামে যথাযোগ্য মর্যাদা ও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন করেছে জেলা প্রশাসন ও জেলা বিএনপি।
দিবসটি উপলক্ষে শনিবার (৭ নভেম্বর) সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সকল সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এছাড়া প্রধান প্রধান সড়কে জাতীয় পতাকা সজ্জিত করা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আলোচনা সভা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, বিভিন্ন স্থানে দিবসের প্রামান্যচিত্র প্রদর্শন, হাসপাতাল, জেলখানা, শিশু পরিবারসহ ভবঘুরেদের উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করাসহ দিনব্যাপী ছিল নানা আয়োজন।
সকালে কলেজ মোড়স্থ পৌর অডিটোরিয়ামে ৭ নভেম্বরের তাৎপর্য নিয়ে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ। এসময় বক্তব্য রাখেন, পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি পিপিএম, সিভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমার বিশ্বাস, কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আনোয়ার হোসেন মন্ডল, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলহাজ্ব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম বেবু, হাসিবুর রহমান হাসিব, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক বীরমুক্তিযোদ্ধা নুরুজ্জামান মিয়া, সদর উপজেলা কমান্ডের আহ্বায়ক বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বাতেন, কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি সফি খান ও সাধারণ সম্পাদক মাহফুজার রহমান খন্দকার, জুলাই যোদ্ধা শামীম প্রমুখ।
সভায় বক্তারা বলেন, ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর এক দেশের অস্থিতিশীল অবস্থায় সেনাবাহিনীর বিপথগামী কর্মকর্তারা মহান স্বাধীনতার ঘোষক, স্বাধীনতা যুদ্ধের জেড ফোর্সের অধিনায়ক ও তৎকালীন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল জিয়াউর রহমানকে গৃহবন্দী করেছিলেন। দেশের এমন ক্রান্তিলগ্নে সাধারণ সৈনিকরা ৭ নভেম্বর ভোরবেলা মেজর জেনারেল জিয়াকে মুক্ত করে রাজপথে নেমে পড়েন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে সকালে আপামর জনতা রাস্তায় নেমে একাত্মতা প্রকাশ করে আনন্দ মিছিল করেন। এ ঘটনার মধ্য দিয়ে সিপাহী-জনতা মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান দেশের সার্বিক দায়ভার গ্রহণ করার পরিবেশ তৈরি করেন। এরপরই জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। একদলীয় শাসনব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে তিনি দেশে নতুন রাজনৈতিক ধারার সূচনা করেন। সেনাপ্রধান থেকে রাষ্ট্রপতি হয়ে যান। গঠন করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি।
দুর্ভিক্ষ, অর্থনৈতিক সংকট ও নানা প্রতিকূলতার সময়ে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ করে জাতীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। বক্তারা আরও বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় শহীদ জিয়াউর রহমানের অবদান ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
এরপর দুপুর ৩টায় কুড়িগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় লাল ও সবুজ দলের প্রদর্শনী ফুটবল ম্যাচ। এতে জেলা প্রশাসন ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার কর্মরত ব্যক্তিরাসহ রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশ গ্রহণ করেন।
সন্ধ্যায় পৌর অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, জুলাই যোদ্ধা, সাংবাদিকসহ সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে স্থানীয় শিল্পীরা দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন।
অন্যদিকে দুপুর ১২টায় জেলা বিএনপির আয়োজনে ‘সার্বভৌমত্ব’ র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি জেলা বিএনপির কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে কলেজ মোড়ে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।
এসময় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রংপুর বিভাগীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল খালেক। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, সদস্য সচিব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম বেবু, হাসিবুর রহমান হাসিবসহ বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এসময় বিএনপির অঙ্গসংগঠনের সহস্রাধিক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন।
দিবসটি উপলক্ষ্যে কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপি নানা কর্মসূচি গ্রহণ করে।
