রাফিউল ইসলাম (রাব্বি) স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর:
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রমেক) গত ২৪ ঘণ্টায় আরো সাতজন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন ৩৫ জন। এছাড়া নগরীর বিভিন্ন ক্লিনিক ও হাসপাতালে অনেকে ভর্তি রয়েছেন।
আক্রান্তদের মধ্যে তিনজন ছাড়া সবাই ঢাকা থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এসেছেন। তাদের বাড়ি রংপুর অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায়।
সিভিল সার্জন জাকিরুল ইসলাম লেলিন জানান, ১৯ জুলাই থেকে ২৮ জুলাই বিকেল পর্যন্ত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত ৩৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মেডিসিন বিভাগে আলাদা ওয়ার্ডে বিশেষ চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এছাড়া আরো বেশ কয়েকজন রোগী ভর্তি হয়েছে তাদের পরীক্ষা করে ডেঙ্গু নিশ্চিত হওয়ার পরই আলাদা ওয়ার্ডে নেয়া হবে।
রোগীদের স্বজনরা জানান, বেশির ভাগই ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি হতে কোচিং করতেন। এছাড়া বেশ কয়েকজন চাকরি করেন। সেখান থেকে আক্রান্ত হয়ে বাড়িতে চলে এসে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা সাকিব নামে এক কলেজছাত্র জানান, ঢাকায় হামদর্দ কলেজে পড়েন তিনি। এক সপ্তাহ আগে প্রচণ্ড জ্বর নিয়ে ঢাকায় ডাক্তার দেখান। সেখানে পরীক্ষার পর ডেঙ্গু ধরা পড়ে। বাড়ি আসার পর অসুস্থ হলে রমেক হাসপাতালে ভর্তি হন।
একই বিভাগে কথা হয় মহানগরীর গনেশপুরের স্বাগত, ঠাকুরগাঁওয়ের নাইমুল ইসলাম, মিঠাপুকুরের সালাম মিয়া। তারা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা থেকে বাড়িতে আসার পর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
নগরীর খটখটিয়া এলাকার প্রকৌশলী আশরাফুল ইসলাম জানান, তিনি আট দিন ধরে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত ছিলেন। সুস্থ হয়ে রংপুরে আসার পর ফের অসুস্থ হলে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
একই কথা জানান নীলফামারীর সৈয়দপুর থেকে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া মনোরঞ্জন রায়। তবে তিনি ঢাকায় যায়নি। বাড়িতে হঠাৎ করে এই জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন।
নার্স ওয়ালেদা বেগম জানান, হাসপাতালে মেডিসিন ওয়ার্ডের কোথাও জায়গা নেই। বাধ্য হয়ে পেয়িং ওয়ার্ড খালি করে সেখানে ডেঙ্গু রোগীদের রাখা হয়েছে।
তিনি আরো জানান, হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের রক্ত পরীক্ষার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বাইর থেকে রক্ত পরীক্ষা করতে হচ্ছে।
রমেক হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. সুলতান আহাম্মেদ জানান, গত দশ দিনে ৩১ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এদের বেশিরভাগই ঢাকা থেকে আক্রান্ত হয়ে রংপুর এসেছেন। রোগীর সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত চিকিৎসকের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এছাড়া প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে ডেঙ্গু শনাক্তের পরীক্ষা এ হাসপাতালে করা যাচ্ছে না।
রংপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, ডেঙ্গু নিয়ে সতর্ক রয়েছি। এরইমধ্যে মশক নিধন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
