জাফর আহমেদ, কুড়িগ্রাম জেলা সংবাদদাতাঃ
কুড়িগ্রামের কৃতী শিক্ষার্থী অনুশ্রী রায় (গুড়িয়া) জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ প্রতিযোগিতায় অসাধারণ কৃতিত্ব অর্জন করে দেশব্যাপী প্রশংসা কুড়িয়েছে। দেশাত্মবোধক গান বিভাগে সারা বাংলাদেশে প্রথম স্থান এবং নজরুল সঙ্গীত বিভাগে তৃতীয় স্থান অর্জন করে সে কুড়িগ্রাম জেলা, রংপুর বিভাগ এবং সমগ্র দেশের জন্য গৌরব বয়ে এনেছে।
এই গৌরবময় অর্জনের স্বীকৃতিস্বরূপ আয়োজিত জাতীয় পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে অনুশ্রী রায় (গুড়িয়া) মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের হাত থেকে পুরস্কার ও সম্মাননা গ্রহণ করে।
জাতীয় পর্যায়ে পৌঁছানোর আগে অনুশ্রী ধারাবাহিকভাবে ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের যোগ্যতা অর্জন করে। গত ১৬ জুন ঢাকায় অনুষ্ঠিত জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬-এর চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সে দেশাত্মবোধক গানে প্রথম এবং নজরুল সঙ্গীতে তৃতীয় স্থান অর্জনের গৌরব লাভ করে।
বর্তমানে অনুশ্রী রায় রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার পূর্ব নবনীদাস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। তার জন্ম কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার হাপারভিটা মণ্ডলের হাট এলাকায়। শৈশবের একটি উল্লেখযোগ্য সময় কেটেছে ঢাকার স্বামীবাগ আশ্রম সংলগ্ন এলাকায়। তার শিক্ষাজীবনের সূচনা হয় কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার আদিনাথ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। পরবর্তীতে মায়ের কর্মস্থল পরিবর্তনের কারণে পরিবার রংপুরে স্থানান্তরিত হলে সেখানেই পড়াশোনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক চর্চায় নিজেকে আরও সমৃদ্ধ করে তোলে অনুশ্রী।
ছোটবেলা থেকেই গান, নাচ, অভিনয়, আবৃত্তি ও ভাগবত পাঠের প্রতি তার ছিল গভীর অনুরাগ। কক্সবাজারের ‘সৃজন সংগীত ভুবন’-এ সংগীত প্রশিক্ষক প্রিয়া দত্তের তত্ত্বাবধানে তার সংগীত শিক্ষার হাতেখড়ি হয়। পরে রতন কুমার সরকার ও পুষ্পজিত রায়ের কাছ থেকেও সংগীতের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও দিকনির্দেশনা গ্রহণ করে সে।
ইতোমধ্যে অনুশ্রী বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে নিজের অসাধারণ প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছে। জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৫-এর জাতীয় পর্যায়ে তৃতীয় স্থান অর্জনের পাশাপাশি **‘নতুন কুঁড়ি’**সহ বিভিন্ন মর্যাদাপূর্ণ সাংস্কৃতিক আয়োজনে সফল অংশগ্রহণ করে প্রশংসা অর্জন করেছে।
অনুশ্রীর মা মনিকা রায় বলেন, “মেয়ের এই অর্জনে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। তার শিক্ষক-শিক্ষিকা, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং যারা সবসময় তাকে উৎসাহ ও সহযোগিতা করেছেন, তাদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। সবাই তার জন্য আশীর্বাদ করবেন, যেন সে ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্য অর্জন করে দেশের মুখ উজ্জ্বল করতে পারে।”
সংগীত প্রশিক্ষক প্রিয়া দত্ত বলেন, “অনুশ্রী অত্যন্ত মেধাবী, পরিশ্রমী ও নিষ্ঠাবান একজন শিক্ষার্থী। তার এই সাফল্য দীর্ঘদিনের কঠোর সাধনা, নিয়মিত অনুশীলন এবং অদম্য অধ্যবসায়ের ফল। জাতীয় পর্যায়ে তার এই অর্জন আমাদের সবার জন্য অত্যন্ত গর্বের।”
অনুশ্রীর বাবা কমল কান্তি রায় বলেন, “মেয়ের এই সাফল্যে আমরা গর্বিত। সে যেন ভবিষ্যতে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে—এ জন্য সবার দোয়া ও আশীর্বাদ কামনা করছি।”
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জাতীয় পর্যায়ে দেশাত্মবোধক গানে প্রথম এবং নজরুল সঙ্গীতে তৃতীয় স্থান অর্জনের মাধ্যমে অনুশ্রী রায় (গুড়িয়া) শুধু তার পরিবার নয়, কুড়িগ্রাম জেলা, রংপুর বিভাগ এবং বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের জন্যও এক অনন্য গৌরব বয়ে এনেছে। তার এই অসাধারণ অর্জনে বিভিন্ন মহল, শিক্ষক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা ও আশীর্বাদ জানিয়েছেন।
