জাফর আহমেদ, কুড়িগ্রাম জেলা সংবাদদাতাঃ
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কুড়িগ্রাম জেলা নবগঠিত কমিটি।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে শুক্রবার (২৮ আগস্ট) কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হয়।
কর্মসূচিতে উপস্থিত থেকে ইঞ্জিনিয়ার মো: ওয়ায়েস কারনী, সিনিয়র সহ-সভাপতি, আহসানউল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, বলেন, “বৃক্ষ শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে না, মানুষের জীবন ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপদ অস্তিত্বের সঙ্গেও এর গভীর সম্পর্ক রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ বিপর্যয়ের এই সময়ে আমাদের প্রত্যেকের দায়িত্ব হচ্ছে বেশি বেশি গাছ লাগানো এবং লাগানো গাছগুলোকে যত্নের সঙ্গে রক্ষা করা।”
তিনি বলেন, “একটি গাছ মানে শুধু একটি চারা নয়; একটি গাছ মানে অক্সিজেন, ছায়া, জীববৈচিত্র্য ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পরিবেশ। তাই বৃক্ষরোপণকে কোনো আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে। বিশেষ করে তরুণ ও শিক্ষার্থীদের পরিবেশ রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।”
ইঞ্জিনিয়ার মো: ওয়ায়েস কারনী আরও বলেন, “আমরা চাই কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজসহ দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে উঠুক। আজ যে চারাটি রোপণ করা হলো, আগামী দিনে সেটিই হয়তো শত শত শিক্ষার্থীকে ছায়া দেবে, নির্মল বাতাস দেবে। এই ছোট ছোট উদ্যোগই একসময় একটি বড় সামাজিক পরিবর্তনের ভিত্তি তৈরি করবে।”
তিনি সবাইকে বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি বৃক্ষ সংরক্ষণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “শুধু গাছ লাগানো নয়, গাছের পরিচর্যা ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করাই আমাদের মূল দায়িত্ব। আসুন, দল-মত নির্বিশেষে পরিবেশ রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ হই এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ, সুন্দর ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলি।”
কর্মসূচিতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ছাড়াও স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসকে আরও সবুজ ও পরিচ্ছন্ন করে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
আয়োজকরা জানান, পরিবেশ সুরক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং তরুণ প্রজন্মকে বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত করতে এ ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। তাদের প্রত্যাশা, সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনপদ সবুজে আচ্ছাদিত হবে এবং গড়ে উঠবে একটি পরিবেশবান্ধব ও টেকসই বাংলাদেশ।
