কুড়িগ্রামে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু

জাফর আহমেদ, কুড়িগ্রাম জেলা সংবাদদাতা:

শিশুদের প্রাণঘাতী সংক্রামক রোগ থেকে সুরক্ষিত রাখতে কুড়িগ্রামে শুরু হয়েছে বহুল প্রত্যাশিত হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৬। জেলার সর্বস্তরে ব্যাপক প্রস্তুতি, প্রশাসনের সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং স্বাস্থ্য বিভাগের সমন্বিত উদ্যোগে এ কর্মসূচি ইতোমধ্যেই জনমনে আশার সঞ্চার করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো টিকা নিশ্চিত করা গেলে হাম ও রুবেলার মতো ঝুঁকিপূর্ণ রোগ প্রতিরোধে এ ক্যাম্পেইন গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠবে।

আজ (সোমবার) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়া এ ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক আলহাজ্ব সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি, সিভিল সার্জনসহ স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ড্যাবের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিরা।

কুড়িগ্রাম সিভিল সার্জনের আয়োজনে পরিচালিত এ ক্যাম্পেইনের আওতায় জেলার ৯টি উপজেলা ও ৩টি পৌরসভায় ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী প্রায় ২ লাখ ৭১ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে জেলার দেড় সহস্রাধিক টিকাদান কেন্দ্রে প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, হাম ও রুবেলা অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা শিশুদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এসব রোগ প্রতিরোধের একমাত্র কার্যকর উপায় হলো নির্ধারিত সময়ে টিকা গ্রহণ। তাই কোনো শিশুকে টিকার বাইরে না রাখতে অভিভাবকদের প্রতি জোরালো আহ্বান জানানো হয়।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, আগামী ১০ মে পর্যন্ত চলমান এই ক্যাম্পেইন সফল করতে স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি এবং স্বেচ্ছাসেবীরা একযোগে কাজ করছে। প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ক্যাম্পেইন সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে কুড়িগ্রামে হাম-রুবেলা রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে এবং শিশুস্বাস্থ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা দেবে। অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে—আপনার শিশুর বয়স যদি ৬ মাস থেকে ৫ বছরের মধ্যে হয়, তবে দেরি না করে নিকটস্থ টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে টিকা নিশ্চিত করুন। একটি সচেতন সিদ্ধান্তই পারে আপনার সন্তানের সুস্থ ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে।

Share Button