তিন শতাব্দী পরে রাজবাড়ীতে ফিরেছে আলো।আহা রাজা সূর্য কুমার সেনের বাস্তুভিটার ঐতিহাসিক অবিচ্ছেদ্য অংশে।
শহরের বাতাসে আজও সেই পুরনো গন্ধ—
গড়াই নদীর কূলে, পদ্মার ঢেউয়ের ছোঁয়ায়
যে শহর একদিন তার শৈশবের খোলা খাতা ছিল।
ট্রেন থেকে নামতেই চেনা রেললাইন চোখে পড়ে,
পায়ে পায়ে উঠে পড়ে ওভার ব্রিজে—
আহ! ওপরে উঠতেই বুক ভরে আসে প্রশান্তিতে।
মনে হয়, রাজবাড়ী তাকে আজও ঠিক আগের মতোই ভালোবাসে।
ভাদু সাহার বিখ্যাত চমচম আর শংকর বাবুর মিষ্টি কত টা বছর খাওয়া হয়নি।
সোনালী ক্ষেতের সুরভী নাকে ভেসে আসছে।
হেঁটে যায় গোদার বাজারের পথে,
পদ্মা পুলের ওপাশ থেকে বাতাসে ভেসে আসে
জল আর হাওয়ার এক মায়াবী গান।
বুক ভিজে ওঠে… চোখ চলে যায় ঢেউয়ের দিকে,
যেখানে প্রতিটি ঢেউ যেন বলে—
“তুই ফিরেছিস… আমি তো তোকে ভীষণ মিস করতাম।”
ভবানীপুরের নার্সারি, শ্রীপুরের হটি কালচার—
সবুজের বুকজুড়ে রঙ ছড়ানো বসন্ত।
প্রকৃতি যেন নিজের আঁচলে জড়িয়ে রেখেছে শহরটাকে।
বিকেলে চলে যায় বেড়াডাঙ্গা আর ভবদিয়া শিশুপার্কে,
হাসিমুখে ছুটে বেড়ায় ছোট ছোট বাচ্চারা।
তাদের হাসি যেন শহরের প্রাণস্পন্দন।
আলো দাঁড়িয়ে থাকে ভবদিয়া যাদুঘরের সামনে—
ভেতরের পুরনো স্মৃতিগুলো যেন ডাক দিয়ে বলে,
“তোর ছেলেবেলার কিছু অংশ এখনো এখানে আছে…”
সন্ধ্যা নামার আগে পদ্মার পাড়ে ছুটে যায় উড়াকান্দায়।
নদীর ধারে বসে দেখে, সূর্যটা ধীরে ধীরে মিলিয়ে যাচ্ছে ঢেউয়ের কোলে মনে হতো লাগলো যেন কোন সমুদ্র সৈকতে হারিয়ে যাচ্ছি ।
আলোর চোখেও তখন একফোঁটা জল,
মনে হয়, সে যেন নিজের শহরের বুকেই ফিরে এসেছে।
“রাজবাড়ী, তুই তো শুধু একটা জেলা নোস…
তুই আমার ফেলে আসা দিনগুলোর ঠিকানা।
তুই আমার হাসি-কান্না, তুই আমার প্রথম ভালোবাসা।
তোর বুকেই লুকিয়ে আছে আমার সব হারিয়ে ফেলা রূপকথা।”
পদ্মার ঢেউয়ে হঠাৎ কানে আসে এক শান্ত কণ্ঠ,
“ফিরে আয় আলো… আমি তো আজও তোকে আগের মতোই ভালোবাসি।”
প্রিয় কলেজ ক্যাম্পাসের প্রতিটি ইট ধুলাবালি,পুকুর ঘাট খেলার মাঠ যেন আলোকে লতাপাতার ন্যায় পেচিয়ে ধরলো, প্রতিটি দেওয়াল থেকে প্রতিধ্বনি হতে লাগলো আলোরা কেন নিজের মাতৃভূমি ছেড়ে চলে যায়…..!
পাট্টা পাংশা রাজবাড়ি বাংলাদেশ।
