জাফর আহমেদ, কুড়িগ্রাম জেলা সংবাদদাতা:
প্রথমবারের মতো শুরু হলো জাতীয় টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন। সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) অংশ হিসেবে কুড়িগ্রামের রাজারহাটে রোববার সকালে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন হয়। উপজেলার ৯ মাস থেকে ১৫ বছরের কম বয়সী সব শিশুকে বিনামূল্যে দেওয়া হবে ইনজেকটেবল টাইফয়েড টিকা।
রাজারহাট পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে রোববার সকাল ৯টায় এ টিকাদান ক্যাম্পেইনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী নিতি রায় সৃষ্টি, আশরাফিয়া অবনী ও দিব্য রায়কে প্রথম টিকা দিয়েই শুরু হয় এই যাত্রা। এক মাসব্যাপী এ কার্যক্রম চলবে আগামী ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত।
রাজারহাট উপজেলায় মোট ২৪টি সেন্টারে ৪৪ হাজার ১৮ জন শিশুকে এ টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। জন্মসনদ নেই—এমন শিশুরাও এ কর্মসূচির আওতায় আসবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আল-ইমরান। তিনি বলেন, ‘শিশুদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে এ টিকা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
স্বাগত বক্তব্যে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. গোলাম রসূল রাখি বলেন, ‘এটি দেশের ইতিহাসে প্রথম টাইফয়েড টিকাদান কর্মসূচি। রাজারহাটে ৯ মাস থেকে ১৫ বছরের কম বয়সী ৫৩ হাজার ৬৬ জন শিশুকে রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে বিনামূল্যে এ টিকার আওতায় আনা হবে।’ ডা. গোলাম রসূল রাখি জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদনপ্রাপ্ত এই ইনজেকটেবল টাইফয়েড টিকা সম্পূর্ণ নিরাপদ। ইতিমধ্যে নেপাল, পাকিস্তানসহ আটটি দেশে এটি সফলভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। বাংলাদেশে টিকা পেয়েছে আন্তর্জাতিক ভ্যাকসিন সহায়তা সংস্থা ‘গ্যাভি’র সহযোগিতায়। সেরাম ইনস্টিটিউট উৎপাদিত এ টিকা কার্যকর ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ামুক্ত বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশরাফুল আলম বলেন, ‘শিশুরা আমাদের ভবিষ্যৎ সম্পদ। তাই তাদের সুস্থ ও নিরাপদ রাখতে টিকাদানের বিকল্প নেই। টাইফয়েড টিকার এই উদ্যোগ একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ, যা আমাদের আগামী প্রজন্মকে মারাত্মক সংক্রামক রোগ থেকে সুরক্ষা দেবে।’
পথশিশু ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের টিকাদানের দায়িত্ব পালন করবে বিভিন্ন বেসরকারি সংগঠন ও এনজিও। স্বাস্থ্য বিভাগ আশা করছে, এ উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশে টাইফয়েড জ্বর নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং শিশুদের মধ্যে এ রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, ডাঃ উম্মে কুলসুম বিউটি-শিশু বিশেষজ্ঞ, ডাঃ বিলকিস বেগম, গাইনী বিশেষজ্ঞ,উপজেলা নির্বাচন অফিসার মাহবুবার বেগম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান, উপজেলা মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজার আয়শা সিদ্দিকা ও চাকিরপশার তালুক সপ্রাবি প্রধান শিক্ষক নুর ইসলাম, সাংবাদিক আব্দুস কুদ্দুস,আকবর আলী,রতন রায়,সোহেল রানা ও প্রমুখ।
