ফের বিদ্যালয়ে ফিরেছে কিশোরী সুমাইয়া

এফ কে আশিক, ভুরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ

৮ম শ্রেনির শিক্ষার্থী সুমাইয়া। পুরো নাম মোছাঃ সুমাইয়া আক্তার। কুড়িগ্রাম জেলার ভুরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়নের নলেয়া গ্রামে জন্ম। বাবা ছামছুল হক  দরিদ্র কৃষক। তিন ভাই বোন নিয়ে তাদের পরিবার।

মাত্র ১১ বছর বয়সেই সুমাইয়ার বড় বোন সুরভী আক্তারকে বিয়ে দেন বাবা ছামছুল হক। বিয়ের পর তাদের একটি কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। পরবর্তীতে যৌতুকের জন্য বোনের শুশুর বাড়ী থেকে চাপ দিতে থাকে। একপর্যায়ে বোনের উপর শুরু হয় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। নির্যাতন সইতে না পেরে বোন তার বাবার বাড়ীতে চলে আসে।

আমি তখন ৭ম শ্রেনিতে পড়ালেখা করি। দারিদ্রতার কষাঘাতে জর্জরিত হয়ে বাবা আমার পড়ালেখা বন্ধ করে দেয়। বিয়ে দেয়ার জন্য পাত্র ঠিক করেন। বোনের বাল্য বিয়ের পরিনতি দেখে আমি বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে মহিদেব যুব সমাজ কল্যান সমিতি সিএনবি প্রকল্পের কর্মীর সহযোগিতা নেই। তারা এসে বাবাকে বুঝিয়ে বিয়ে বন্ধ হয়ে যায়। সুমাইয়ার বাবা বলেন, দু‘বেলা খাবার জোটানই কষ্টের সেখানে মেয়েকে পড়ালেখা কিভাবে করাবো। এমতবস্থায় সুমাইয়ার দু‘বছর পড়াশুনা বন্ধ থাকে।

পরবর্তীতে যুব সংগঠনের সহযোগিতায় ভুরুঙ্গামারী সিনিয়র মাদ্রাসায় ভর্তি হন। মহিদেব যুব সমাজ কল্যান সমিতির মাধ্যমে ৪দিনের প্রশিক্ষন পেয়ে ঝড়ে পরা কিশোরীদের নিয়ে সচেতনতামুলক উঠান বৈঠক করেন। পরে ২০২৪ সালের জানুয়ারী মাসে উপজেলা শ্রেষ্ঠ ইয়ুথ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে পুরুস্কৃত হয়। সেখান থেকে আর্থিক সহযোগিতা পেয়ে নিজের লেখাপড়ার খরচ নিজেই চালায়। বর্তমানে সুমাইয়া ভুরুঙ্গামারী সিনিয়র মাদ্রাসার নিয়মিত ছাত্রী।

এ বিষয়ে সুমাইয়া বলেন, পড়াশুনা শেষ করে আমি শিক্ষক হয়ে দেশ ও জাতি গঠনে ভূমিকা রাখতে চাই।

মহিদেব যুব সমাজ কল্যান সমিতির সিএনবি প্রকল্পে ফিল্ড ফ্যাসিলেটেটর জেসমিন আক্তার বলেন, প্রথমত আমরা আমাদের সংস্থা উদ্যোগ নিয়ে কিশোরীর বাল্য বিয়ে প্রতিরোধ করি পাশাপাশি বিভিন্ন প্রশিক্ষন দিয়ে তাকে স্বাবলম্বী করায় চেষ্টা করেছি। আগামী দিনেও আমাদের এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

Share Button