কুড়িগ্রামে অবরোধে নাশকতা রোধে সতর্ক অবস্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

স্টাফ রিপোর্টার:

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে হরতাল, অবরোধ ও নাশকতা রোধে যৌথ বাহিনীর  অভিযানের ফলে বিএনপি-জামায়াতের ডাকা ৩ দিনের অবরোধে কুড়িগ্রাম জেলায় এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। অবরোধের তৃতীয় দিনেও জেলায় আইন শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক দেখা গেছে।

বৃহস্পতিবার (২ নভেম্বর) সকাল থেকে কুড়িগ্রাম জেলার বেশ কয়েকটি এলাকা ঘুরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সতর্ক অবস্থান চোখে পড়েছে। প্রতিটি মোড়ে মোড়ে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখা গেছে। নাশকতা ঠেকাতে র‍্যাব, পুলিশ, আনসার ও গোয়েন্দাদের পাশাপাশি বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) সদস্যদেরও টহল দিতে দেখা গেছে।

সড়কে শুধু দূরপাল্লার বাস ব্যতিত অন্যান্য সকল ধরনের যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। সাধারণ যাত্রী ও পথচারীরা নিরাপদে তাদের নিজস্ব কর্মস্থলে যাতায়াত করছে । শহরে অন্যান্য দিনের মতোই সকাল থেকে সব ধরনের দোকান-পাট খোলা রয়েছে।

কুড়িগ্রাম জেলা সদরের রেলস্টেশন এলাকার ইজিবাইক চালক হারুন জানান, সকাল থেকে গাড়ি নিয়ে বের হয়েছি। স্টেশন এলাকা থেকে বিভিন্ন এলাকাগামী যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে। সড়কে তেমন কোন ঝামেলা নেই। পুলিশ ও বিজিবি সদস্যরা সবসময় টহল দিচ্ছে।

কুড়িগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব অধ্যক্ষ রাশেদুজ্জামান বাবু বলেন, সাংবাদিক নির্যাতন, জ্বালাও-পোড়াও, সাধারণ মানুষের জানমালের ক্ষতিসাধনসহ পুলিশকে নির্মমভাবে হত্যা করে জামায়ত-বিএনপি প্রমাণ করেছে তারা নাশকতা সৃষ্টিকারী, দেশদ্রোহী কাজে লিপ্ত সন্ত্রাসী সংগঠন। আগামী নির্বাচন পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াতকে মোকাবিলা করতে হবে। সেজন্য কুড়িগ্রামে আওয়ামী লীগসহ সকল সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সমর্থকরা সর্বদা প্রস্তুত রয়েছি।

আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিএনপি-জামায়াতের ডাকা অবরোধে নাশকতা রোধে এবং শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

অবরোধ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কেউ যেন কোনো ধরনের নাশকতা করতে না পারে সেজন্য আনসার, পুলিশ ও র‌্যাবের পাশাপাশি মাঠে প্রস্তুত রয়েছে বিজিবি। নাশকতার চেষ্টা হলে মাঠে পুলিশ ও র‌্যাব কঠোর অবস্থানে যাবে বলে সংশ্লিষ্ট বাহিনীর পক্ষ থেকে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক সাইদুল আরীফ বলেন,  রাজনৈতিক দলের ডাকা হরতাল ও অবরোধে জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ জেলায় শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ, বিজিবি ও র‌্যাবের সমন্বয়ে প্রতিটি এলাকায় যৌথ টহল চলমান ছিল। এরপরও যদি কেউ নাশকতা কিংবা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করে তবে তাকে আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

Share Button