মো. জুয়েল,ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
শনিবার ইফতার ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেন বাংলাদেশ সাধারন ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ,ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার নেতৃবৃন্দ। পুলিশি পাহারায় ভিপি নুর অনুষ্ঠানস্থলে গেলেও রেস্টুরেন্টে তালা দিয়েছে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের মসজিদ রোডস্থ গ্র্যান্ড এ মালেক চাইনিজ রেস্টুরেন্টে ইফতার মাহফিলের প্রধান অতিথি করা হয় ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুরকে। রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষকে বিল পরিশোধ করে ইফতারের আয়োজন সম্পন্ন করার পর বিকালে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা ইফতার অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেয়। পাশাপাশি ভিপি নুর ও তার সহযোগীদের প্রতিহত করারও ঘোষণা দেয় ছাত্রলীগ।
ইফতার অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ভিপি নুর ঢাকা থেকে চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনের ‘ঝ’ বগিতে করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উদ্দেশে রওনা হন। কিন্তু তাকে ঘিরে শহরে উত্তেজনা দেখা দেয়ায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার তালশহর রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেন থামিয়ে রাখা হয়।
প্রায় দুই ঘণ্টা পর পুলিশ তালশহর রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে ভিপি নুরকে নিয়ে আসে। সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে রেলওয়ে স্টেশনে নেমে কড়া পুলিশি পাহারায় মসজিদ রোডে গ্র্যান্ড এ মালেক রেস্টুরেন্টে যান নুর। কিন্তু রেস্টুরেন্ট বন্ধ থাকায় তিনি আয়োজকদের নিয়ে রেস্টুরেন্টের সামনে অবস্থান নেন।
তখন ভিপি নুর বলেন, ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা কেন এমন উগ্র আচরণ করছে এটি আমাদের বোধগম্য নয়। বিষয়টি আমি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে জানিয়েছি। যদি আমাদের সঙ্গে জামায়াত-শিবিরের সংশ্লিষ্টতা থাকত তাহলে তো প্রধানমন্ত্রী আমাদের দাওয়াত দিয়ে গণভবনে নিয়ে যেতেন না। আমরা আশা করি যারা ছাত্রলীগের দায়িত্বে আছেন তারা তাদের উগ্র এবং অতি উৎসাহী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন। পাশাপাশি নিজের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
প্রায় ৫০-৬০ জন ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ ও কর্মীরা বিকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেল স্টেশনে অবস্থানরত কর্মীদের উপর আক্রমণ করে। গ্র্যান্ড এ মালেক চাইনিজ রেস্টুরেন্টের সত্ত্বাধিকারী আব্দুল মালেক সাংবাদিকদের জানান, ছাত্রলীগ পরিচয়ে কয়েকজন ছেলে এসে ইফতার আয়োজকদের বের করে দিয়ে রেস্টুরেন্টে তালা দিয়েছে।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানা পুলিশের ওসি মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
