মোঃ শাহ্ জালাল:
রোদ, প্রচণ্ড গরম, হঠাৎ ঝুম বৃষ্টি। যানজট তো আছেই। তবে এতে কোনো ছেদ পড়েনি ঈদের কেনাকাটায়। গত শুক্র,শনি সরকারী ছুটির দিনে রাজধানীর বিভিন্ন বিপণিবিতান এলাকায় গিয়ে ক্রেতাদের ভিড় দেখে মনে হচ্ছে, ঈদের বেশি বাকি নেই।
নিউমার্কেট, গাউছিয়া, ঢাকা কলেজের সামনের বিভিন্ন দোকান, বঙ্গবাজার, মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেট এখন ক্রেতার ভিড়ে সরগরম। বিক্রেতাদের দাবি, নগরের অন্যান্য এলাকার তুলনায় এসব স্থানে জিনিসপত্রের দাম তুলনামূলক কম। বাচ্চাদের জামাকাপড়, খেলনা, জুতা, কানের দুল, গলার মালা, চুড়ি, টিপ, চুলের ব্যান্ড, হাঁড়ি-পাতিল, টেবিল ক্লথ, চাদর, কুশন, মেয়েদের টপস, ওড়না, প্যান্ট, ছেলেদের পাঞ্জাবি-পায়জামা, শার্ট, টি-শার্ট, ট্রাউজারসহ হরেক রকম জিনিসের পসরা সাজানো।
এই মার্কেটগুলোতে উচ্চ, মধ্য ও নিম্ন আয়—সব ধরনের ক্রেতাদের বিচরণ। পার্থক্য শুধু কেনাকাটার ধরনে। গ্রিনরোডের বাসিন্দা শিমু বলেন, ঈদের বাজার বলে কথা। নিউমার্কেট, গাউছিয়াতে ঢুঁ না দিলে তো মনে হয় বাজার করাই হলো না। ঈদের বাজার মানে তো আর শুধু শাড়ি, জামা কেনা নয়; এর সঙ্গে লাগে নানান কিছু। আর ঘর সাজাতে বিছানার চাদরসহ টুকটাক কত কিছু কিনতে হয়। তিনি বলেন, এবার মার্কেটগুলোতে ঈদ উপলক্ষে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ফলে কেনাকাটা করা যাচ্ছে অনেকটা নিশ্চিন্তে। বখাটের উৎপাতও কম।
বঙ্গবাজারের মোখলেছ বস্ত্র বিতানের মালিক মোঃ মোখলেছ বলেন, ঈদের বিক্রি ভালোই। তাঁর দোকানের থ্রি-পিস ভালোই বিক্রি হচ্ছে। এখন মূলত বিভিন্ন এলাকার পাইকারেরা পোশাক কিনে নিচ্ছেন। কম আয়ের ক্রেতারও ভিড় আছে।
বেলা সাড়ে তিনটার পর হালকা বৃষ্টি হয় ধানমন্ডি ও নিউমার্কেট এলাকায়। ঢাকা কলেজের বিপরীত পাশে, নিউমার্কেট ও গাউছিয়ার সামনে চৌকিতে করে কাপড় বিক্রি করা ব্যবসায়ীরা ব্যস্ত হয়ে পড়েন বড় পলিথিন দিয়ে কাপড় ঢাকতে। অবশ্য তখন ভেতরের দোকানগুলোতে পুরোদমেই চলছিল কেনাকাটা।
ঢাকা কলেজের উল্টো পাশের নূরজাহান সুপার মার্কেটের নিচতলায় বাচ্চাদের কাপড়, দোতলায় বড়দের প্যান্ট, শার্ট, শাড়ির দোকানে প্রচণ্ড ভিড়। এখানকার একজন বিক্রয়কর্মী মোঃ আলামিন ক্রেতাদের সঙ্গে দরদাম করতে করতেই বললেন, ‘এইখানে পয়সাওয়ালারাই বেশি আসে। একেকজন ব্যাগ ভইরা কিনে।’
ঝিগাতলার ল বাসিন্দা মিসেস.মায়া ঢাকা কলেজের উল্টো দিক থেকে প্রায় আট হাজার টাকার ঈদবাজার করলেন। তিনি বললেন, এখানকার কাপড় ভালো। দামেও কিছুটা কম।
মোহাম্মদপুরের কৃষি মার্কেটের সামনে গাড়ি পার্কিংয়ে গাড়ি রাখার জায়গা পাওয়াই কঠিন। ভেতরে অনেকটা নিউমার্কেট, গাউছিয়ার মতো সব জিনিসই পাওয়া যায়। ক্রেতাদের একজন বললেন, এটিকে নিউমার্কেটের ‘বিকল্প’ বলতে পারেন। ফলে, এখানেও বিভিন্ন শ্রেণির ক্রেতার জমজমাট উপস্থিতি।
কৃষি মার্কেটের নূরে মদিনা ক্লথ স্টোর থেকে শাশুড়ির জন্য শাড়ি ও নিজের জন্য লুঙ্গি কিনলেন এক সৌদি আরবপ্রবাসী। দুই নারী মায়ের জন্য শাড়ি কিনতে বৃদ্ধ মাকেও নিয়ে এসেছেন। ওই দোকানের মালিক শহীদুল ইসলাম বললেন, নিম্ন আয়ের লোকদের কেনাকাটা শুরু হবে রমজান মাসের একদম শেষের দিকে। পোশাকশিল্প কারখানার শ্রমিক বা অন্যরা বেতন-বোনাস পাওয়ার পর এ মার্কেটে পা ফেলার জায়গা পাওয়া যায় না।
