হাফিজুর রহমান হৃদয়, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর কয়েকদিনের ভাড়ি বৃষ্টিপাতে কুড়িগ্রামে ফের বেড়েছে ধরলা, তিস্তা, দুধকুমার, ব্রহ্মপুত্র, সঙ্কোষ ও গঙ্গাধরসহ সবকটি নদ-নদীর পানি। প্লাবিত হয়েছে জেলার বিভিন্ন চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চল। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে এসব এলাকার প্রায় ২০ হাজার মানুষ। বেশকিছু এলাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় বাইরে বের হতে পারছেন না তারা। ফলে দেখা দিয়েছে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সঙ্কট। চরম দুর্ভোগে রয়েছেন বানভাসীরা। বন্যা কবলিতরা বলছেন বারবার পানিতে ভাসলেও নেই সরকারি কিংবা-বেসরকারি কোনো সহযোগিতা।
জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে চলতি বন্যায় বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়ে শিশু, বৃদ্ধ ও গবাদিপশু নিয়ে চরম বিপাকে রয়েছেন পানিবন্দী মানুষ। রান্নাঘরে পানি ওঠায় চুলোয় আগুন জ্বালাতে না পেরে একবেলা কিংবা আধাবেলা খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে তাদের। এদিকে রাস্তার উপর পানি থাকায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে স্কুল-কলেজে যেতে পারছেন না শিক্ষার্থীরা। কাজে বের হতে পারছেন না খেটে খাওয়া মানুষ।
বেরুবাড়ী ইউনিয়নের কপিলের চরের আব্দুল হামিদ জানান তার ছেলে ৫ম শ্রেণিতে পড়েন। একবুক পরিমাণ পানি পাড় হয়ে কিংবা সাঁতরে পানি পাড়ি দিতে হয়। তাই তার ছেলে এখন স্কুলে যায় না। একই অবস্থা ওই এলাকার শুকুর আলীর মেয়ে আল্পনা খাতুনসহ অনেকের। তারা আরও জানান নৌকা কিংবা কলাগাছের ভেলায় চরে যেতে হয় এক স্থান থেকে অন্য স্থানে। ফলে ঘরের ভেতরেই দিন-রাত কাটে তাদের।
নুনখাওয়া ইউনিয়নের ব্যাপারীরচর এলাকার সাইফুল ইসলাম, বাচ্চু মিয়া জানান, সামান্য পানি হলেই পানিবন্দী হতে হয় তাদের এলাকায় বেশ কিছু পরিবারকে। ফলে কাজে বের হতে পারেন না তারা। বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের ধনীটারী এলাকার আব্দুল মজিদ জানায় তাদের এলাকা দিয়ে নাগেশ্বরী পৌরসভা যাওয়ার রাস্তায় একটি কাঠের সাঁকো থাকলেও সেটিও ভেঙ্গে গেছে এক অংশ। ফলে এক কোমর পানিতে ভিজে বাই সাইকেল ঘারে করে পারাপার হতে হয় তাদের। ফলে ছেলে-মেয়েরা স্কুল কলেজে যাওয়া ছেড়ে দিয়েছে। সেখানে একটি ব্রিজ নির্মাণ কাজ শুরু হলেও দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ রয়েছে। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ।
বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের তরনীকান্ত সেন জানায় তিনি নাগেশ্বরীতে একটি ছোট দোকান করেন। সে দোকানের আয় দিয়ে তার সংসার চলে। কিন্তু তাদের বাড়ি থেকে নাগেশ্বরী যায়ার পথে পানি থাকায় তিনি দোকান করতে পারছেন না। ফলে তার মতো এ অঞ্চলের অনেকেই বহু কষ্টে আছেন। রায়গঞ্জ ইউনিয়নের ফান্দেরচর এলাকার শহিদুল ইসলাম জানান গবাদীপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তার এলাকার মানুষ। বাড়ি থেকে পানি নেমে গেলেও বাড়ির চারদিকে পানি থাকায় গো-খাদ্য সংকট রয়েছে। আশেপাশে চর এলাকায় ঘাষ লতাপাতা থাকলেও সেগুলোতে পানি থাকায় গবাদিপশু নিয়ে চরম বিপাকে তারা।
কুড়িগ্রাম জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী নাগেশ্বরীর নদ-নদীগুলোতে পানি বাড়লেও এখন কিছুটা কমতে শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদের নুনখাওয়া পয়েন্টে ২০ সেন্টিমিটার এবং দুধকুমার নদীর পাটেশ্বরী পয়েন্টে ৫৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরীফ বলেন, জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে আমরা সব সময় খোঁজ খবর রাখছি। সকল উপজেলায় আমাদের পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুদ রয়েছে। এছাড়াও আমাদের আশ্রয়কেন্দ্রও প্রস্তুত রয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসন বন্যা দুর্গতদের পাশে থাকার জন্য প্রস্তুত।
