হাবিবুর রহমান, চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধিঃ
প্রতি বছরের ন্যায় কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের ডান তীরে সর্ব বৃহৎ হিন্দু ধর্মালম্বীদের অষ্টমীর স্নান অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে স্থানীয় প্রশাসন রাজারভিটা থেকে পুটিমারী পর্যন্ত নদের ডান তীরে প্রায় ৫কিলোমিটার জুড়ে স্নানের প্রস্তুতি গ্রহন করেছেন। এবং তাদের সুবিধার জন্য বিশুদ্ধ পানী ও পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থা গ্রহন করেছেন। জানা যায় ১৯৪৫ সাল থেকে প্রতি বছর চৈত্রী মাসের শুল্ক পক্ষের অষ্টমীর তিথিতে এই দিনে ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে হিন্দু ধর্মালম্বীরা ঐতিহ্যবাহী অষ্টমী স্নান অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। শুক্রবার রাত ৯.১৫ থেকে শনিবার রাত ১১.১৫ মিনিট পর্যন্ত অষ্টমীর তিথি থাকবে বলে জানা যায়। প্রতি বছর এই দিনে নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপ ও ভারতসহ দেশেরে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে লক্ষ লক্ষ পূন্যার্থীর আগমন ঘটে ব্রহ্মপুত্রের তীরে। সে মোতাবেক আজ ৯ এ এপ্রিল শনিবার অষ্টমী স্নান ও মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ব্রহ্মপুত্রের তীরে অনুষ্ঠিত অষ্টমীর স্নান কি আগের মত আনন্দে মুখরিত হবে, এই নিয়ে আশংক্ষায় ভুগছেন কিছু হিন্দু ধর্মালম্বীরা।

জানা যায়, শুক্রবার গভীর রাত থেকে বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সনাতন ধর্মালম্বীরা পূন্যার্থীরা ব্রহ্মপুত্রের পারে সমবেত হয় এবং স্নান উৎসবে যোগদেন। তবে সকালে চিলমারী মডেল থানার পুলিশ তীর্থস্থানে সমবেত হওয়া পূন্যার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তার কথা বলেছেন। তাদের নিরাপত্তার জন্য কন্ট্রোল রুমের ব্যবস্থা, পুলিশ বাহিনী ও আনসার বাহিনী মাঠে আছন। স্নান উৎসবে আসা স্বপন কুমার, তপন কুমার, সুকুমার, শুটকু, রতন চন্দ্র, মিলন চন্দ্র ও বকুল চন্দ্র জানান, আমাদের ঐতিহ্যবাহী ও বৃহৎ একটি পর্ব অষ্টমী স্নান। যা বছরে একদিন আসে সেই দিনটা আমাদের জন্য পাপ মোচনের দিন, তাই আমরা আমাদের পাপ মোচনের জন্য পরিবারের সবাই কে নিয়ে এসেছি, পাপ মোচন করতে। বাংলাদেশ পূঁজা উদযাপন কমিটির চিলমারী শাখার সভাপতি ডা. সলিল কুমার সরকার ও স্নান কমিটির আহ্বায়ক শ্রী বিষু চন্দ্র জানান, এবারের পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে ও এবারের অষ্টমী স্নানে প্রায় ২/৩ লক্ষাধিক পূন্যার্থীর সমাগম ঘটতে পারে বলে মনে করি। চিলমারী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ(ভারঃ) প্রাণ কৃষ্ণ বলেন, ব্রহ্মপুত্রের তীরে প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে পুলিশ বাহিনী, আনসার বাহিনী, টহল অব্যাহত আছে।এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাহবুবুর রহমান বলেন, অষ্টমী স্নানের আসা হিন্দু ধর্মালম্বীদের যেন কোন প্রকার সমস্যা না হয় সে দিকে নজরদারি রাখা হয়েছে বলে তিনি জানান।
