নাগেশ্বরীতে সাপখাওয়া দাখিল মাদরাসা-রতনপুর কাচা রাস্তার বেহাল দশা

স্টাফ রিপোর্টার:

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে সাপখাওয়া দাখিল মাদরাসা হতে মধুরহাইল্যা হয়ে রতনপুর পর্যন্ত কাচা রাস্তাটির বেহাল অবস্থা হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে এলাকাবাসী। রাস্তাটি পাকাকরণ না হওয়ায় শিক্ষা, কৃষি ও ব্যবসাসহ অন্যান্য উন্নয়নও ব্যহত হচ্ছে। সীমাহীন দুর্ভোগ আর কষ্টে অতিষ্ট হয়ে পড়েছে জনসাধারণ। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে নাগেশ্বরী পৌরসভার সাপখাওয়া দাখিল মাদরাসা থেকে মধুর হাইল্যা হয়ে রায়গঞ্জ ইউনিয়নের রতনপুর এলাকা পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার কাচা রাস্তাটির বিভিন্ন জায়গায় খনাখন্দকের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই বিভিন্ন জায়গা হাঁটু কাদায় পরিণত হয়। কোনো যান চলাচল করতে পারে না। রাস্তাটি দিয়ে প্রতিনিয়ত সোনইর খামার, রায়গঞ্জ, ইউনিয়ন পরিষদে সেবা গ্রহণ, বোর্ডের বাজার, মাঝিটারী, আদর্শ পাড়া, মাস্টারপাড়া, মিনাবাজার, বড়বাড়ী, হাজির মোড়, মোল্লারভিটা, তেলিয়ানীর পাড়, সাপখাওয়া, নাগেশ্বরী পৌরসভার মধুরহাইল্যা, সরকারটারীসহ আরও অনেক এলাকার শহ¯্রাধিক জনসাধারণ চলাচল করেন। ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, কৃষিপণ্য পরিবহন, স্বাস্থ্যসেবাসহ সকল প্রকার পরিচালনার জন্য জেলা ও উপজেলা সদরে যাতায়াতের একমাত্র ভরসা বেহাল এই কাচা রাস্তাটি। যা সামান্য বৃষ্টিতেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে যায়। অসংখ্য জায়গায় খানাখন্দক ও বিভিন্ন জায়গা দেবে গিয়ে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। অপ্রশস্ত এবং কাদার কারণে যান চলাচলও বন্ধ প্রায়। ফলে চরম দুর্ভোগের শিকার এসব অঞ্চলের সাধারণ মানুষ ও শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক এবং মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে বিভিন্ন মহলে রাস্তাটি পাকাকরণের দাবি জানালেও এর আশু কোনো ব্যবস্থা নেননি আগের এমপি কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এমনকী গেলো ১১ আগস্ট ঘন্টাব্যাপী একটি বিশাল মানববন্ধনও করেন স্থানীয়রা। এ ব্যাপারে মিজানুর রহমান মিজান, আব্দুর রশিদ, চন্দন কুমার, শামছুল আলম জানায় রাস্তাটি দিয়ে সাপখাওয়া বাজার ও বাচ্চাদের স্কুলে যাওয়ার একমাত্র পথ। বর্ষার দিনে তাদের সন্তানরা স্কুল ও মাদরাসায় যেতে পারেন না। সাপখাওয়া বাজারের মো হোমিও হলের সত্বাধিকারী ডা. শেখ মো. নুর ইসলাম জানায় বাড়ি থেকে বাজার যাওয়ার রাস্তাটিতে অসংখ্য খনাখন্দক ও হাটু কাদা। গাড়ী নিয়ে চলাচল করা যায় না। তাই বর্ষায় ব্যবসা বাদ দিতে হয়। শিক্ষার্থী আমিনা খাতুন ঋতু, রায়হান জানায় এখন বর্ষাকাল। ভয়ে স্কুলে যেতে পারি না। ভালোভাবে বের হলে পিছলে পড়ে বই, খাতাপত্র ভিজে যায়, কাদা গায়ে বাড়িতে ফিরে আসতে হয়। সালেহা খাতুন জানায়, রাস্তার অবস্থা ভালো না হওয়ায় ওই এলাকায় কোনো আত্মীয় করতে চায় না। মেয়ে ছেলেকে বিয়ে দিতেও বিপাকে পড়েন তারা। এমনকী কোনো অসুস্থ কিংবা গর্ভবতী মহিলাকে সময়মতো হাসপাতালে নিতে পারেন না। রিকশা ও অটো রিকশাকে ডাকলে রাস্তার কারণে আসতে চায়না। ভাড়া দিগুণ চায়।
রায়গঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান আ.স.ম আব্দুল্লাহ আল-ওয়ালিদ মাসুম বলেন, রাস্তাটি পাকাকরণ না হওয়ায় অনেকদূর ঘুরে উপজেলা ও জেলা সদরে যেতে হয়। পথচারীকে অনেক কষ্ট পোহাতে হয়। ঘুরে যেতে খরচও দ্বিগুণ পড়ে। রাস্তাটি পাকাকরণ হলে এলাকাবাসীর দুর্ভোগ লাঘব হবে। এদিকে নাগেশ্বরী উপজেলার বিগত প্রকৌশলী বাদশা আলমগীর ২ বছর আগে এক সাক্ষাতকারে বলেছিলেন রাস্তাটি পাকাকরণের জন্য একটি প্রকল্পে ধরা আছে। অনুমোদন হলেই টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ শুরুর আশ্বাস দেয়ার ২ বছর পেরিয়ে গেলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি এখনও। বর্তমান ভারপ্রাপ্ত উপজেলা প্রকৌশলী আসিফ ইকবাল বলেন, আমি এখানে নতুন। এই রাস্তার ব্যাপারে আমার জানা নেই।

Share Button