কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি : ভাঙ্গনে দিশাহারা নদীপাড়ের মানুষ

হাফিজুর রহমান হৃদয়:

উজানের ঢল আর ভাড়ি বৃষ্টিতে কুড়িগ্রামের নদ-নদীগুলোতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া বৃদ্ধি পেয়েছেধরলা, দুধকুমার, সঙ্কোষ, ব্রহ্মপুত্র ও গংগাধরের পানিও। পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ডুবছে চর ও নিম্নাঞ্চল। ডুবে গেছে এসব এলাকার রোপা আমন, সবজিসহ বিভিন্ন ধরণের ফসল। এদিকে অব্যাহত নদী ভাঙ্গনে বিলিন হয়েছে নাগেশ্বরী উপজেলার রায়গঞ্জ ইউনিয়নের, হাজীরমোড়, বড়বাড়ী, মিনাবাজার, বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের তেলিয়ানিরকুটি, বড়মানী, ওয়াপদাঘাট, বেরুবাড়ী ইউনিয়নের ফান্দেরচর, চরবেরুবাড়ী, বল্লভেরখাস ইউনিয়নের রঘুরভিটা, কৃষ্ণপুর, রাম দত্তসহ বিভিন্ন প্রায় শতাধিক ঘর বাড়ি, সুপাড়ি বাগান ও আবাদি জমি। দুধকুমার নদীতে বিলিন হয়েছে বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের আনছারহাট জামে মসজিদ। ভাঙ্গনের হুমকিতে আছে রঘুর ভিটা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ মসজিদ, মাদ্রাসা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ ও ফসলী জমিসহ নানা স্থাপনা। এছাড়াও ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে কালীগঞ্জ, নুনখাওয়া, নারায়নপুর ইউনিয়নেও। ভিটেমাটি হারিয়ে নদী পাড়ের এসব মানুষ ঠাঁই নিচ্ছে ওয়াপদার বাঁধ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন উচু যায়গাসহ খোলা আকাশের নিচে। বন্যা আর ভাঙ্গন আতঙ্কে দিশাহারা নদী পাড়ের বাসিন্দাদের দাবি ভাঙ্গন রোধে দ্রæত পদক্ষেপ নেবে সরকার।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় রায়গঞ্জ ইউনিয়নের মিনাবাজার, বড়বাড়ী এলাকায় ঘর-বাড়ি ভাঙতে ব্যস্ত সময় পার করছেন আফছার আলী, ৯ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য বাহেজ আলী, ইয়াজ আলী, কাছিম উদ্দিনসহ আরও অনেকে।

ইউপি সদস্য বাহেজ আলী জানায়, তার ২বিঘা জমি নদীগর্ভে বিলিন হয়েছে। এখন তার আবাসস্থলটুকুও ভাঙতে হচ্ছে। ঘরবাড়ি ভেঙ্গে পার্শ্ববর্তী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিচ্ছেন তিনি। আফছার আলী জানায় তারও প্রায় ২০ বিঘা জমি বিলিন হয়েছে নদীতে। বাড়ীর পেছনের ২ বিঘা জমির সুপাড়ি, বাগান, ছাড়াও বিলিন হয়েছে বেগুন, আলুসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষেত। ইয়াজ আলী ও কছিম উদ্দিন জানায় তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই বলতে বসতভিটায় মাত্র ৪ শতক জমিতে মাথা গুঁজে পরিবার পরিজন নিয়ে ভালোই ছিলেন তারা। কিন্তু সর্বগ্রাসী নদী কেরে নিলো তাদের শেষ সম্বলটুকুও। ভিটেমাটি হারিয়ে এখন কোথায় ঠাঁই নেবেন এ নিয়ে দিশাহারা তারা। বেরুবাড়ী ইউনিয়নের ফান্দেরচর এলাকার মফিজুল ইসলাম জানান, একমাস থেকে ফান্দের চর এলাকায় তিব্র ভাঙ্গন সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরের এক তৃতীয়াংশ দুধকুমার নদে বিলিন হয়েছে।

বল্লভের খাষ ইউপি চেয়ারম্যান আকমল হোসেন জানান, গঙ্গাধরের ভাঙ্গনে তার ইউনিয়নের তিনটি গ্রামের প্রায় অর্ধশত পরিবার তাদের ভিটেমাটি হারিয়েছে। বসত ভিটা হারানো কিছু পরিবার স্থানীয় স্কুল ঘরে কিছু পরিবার খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছে।

রায়গঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আ.স.ম আব্দুলাহ আল-ওয়ালিদ মাছুম জানান, প্রায় দুইমাস থেকে দুধকুমার নদের ভাঙ্গন তিব্র হয়েছে। তার ইউনিয়নে প্রায় অর্ধশত পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে। এসব মানুষ অসহায়ভাবে দিনাতিপাত করছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত তাদের জন্য কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ওমর ফারুক মো.মোক্তার হোসেন জানান, ইতোমধ্যে ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শণ করা হয়েছে। ভাঙ্গন কবলিত এলাকায় আপদকালীন ব্যবস্থা নেয়া যায় কিনা তা আমরা দেখছি।

Share Button