স্টাফ রিপোর্টার:
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার বল্লভেরখাষ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আকমল হোসেনের বিরুদ্ধে ভিজিএফের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ইউনিয়নটিতে গত ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ৬ হাজার ৬৭১ জন সুবিধাভূগিকে ভিজিএফ’র সুবিধা দেয়া হয়। এর মাঝে নামে বেনামে প্রায় ১২শ সুবিধাভোগীর প্রাপ্য টাকা চেয়ারম্যান আত্মস্বাৎ করেছে বলে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছে কয়েকজন ইউপি সদস্য। এছাড়া বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ ছয়নয় করার অভিযোগও রয়েছে ওই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ।
অভিযোগে যায়, উপজেলার বল্লভেরখাষ ইউনিয়নটিতে গেল ঈদুল ফিতর ও করোনাকালীন সময় দরিদ্র, অতিদরিদ্র, দিনমুজুর, রিক্সচালকসহ অসহায়দের জন্য ভিজিএফ’র নগদ ৪৫০ টাকা করে ৬ হাজার ৬৭১ জন সুবিধাভোগীর বিপরীতে বরাদ্দ দেয়া হয় ৩০লাখ ১হাজার ৯৫০ টাকা। নগদ টাকা বিতরণের সুযোগে চেয়ারম্যান বিভিন্ন জনের জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যবহার করে ১২শ নাম অন্তর্ভূক্ত করেন, এদের বিপরিতে বরাদ্দকৃত প্রায় ১৯লাখ ২১হাজার টাকা আত্মস্বাৎ করেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, একই পরিবারের একাধিক সদস্য, চাকুরীজীবি, সচ্ছল, এবং ইউনিয়নের বাইরের বাসিন্দার নাম তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করেছেন চেয়ারম্যান। এসব সুবিধাভোগীর বেশিরভাগ জানে না তাদের নাম ভিজিএফের তালিকায় রয়েছে। যেসব পরিবারের একাধিক নাম রয়েছে সেসব পরিবারে একজনকে টাকা দিয়ে বাকি গুলো আত্মস্বাৎ করেছেন চেয়ারম্যান।
তালিকায় ৪৩৬ নম্বরে নাম থাকা খাইরুল আলম বলেন, আমিসহ আমার তিন সন্তানের নাম তালিকায় থাকলেও শুধুমাত্র আমার মেয়ে টাকা পেয়েছে। আমি এবং আমার দুই ছেলে কোন টাকা পাইনি। তালিকায় ৭০১ নম্বরে থাকা প্রাথমিকের শিক্ষক কমল চন্দ্র জানান, তার এবং তার স্ত্রী পপি রাণীর নাম তালিকায় রয়েছে। কিভাবে এটা হয়েছে কিছুই জানেন না তিনি। তালিকায় ৪১৩ নম্বরে নাম থাকা আবুল কাশেম বলেন, আমার নাম ভিজিএফ’র তালিকায় থাকলেও আমি জানিনা এবং টাকাও পাইনি। নামের পাশে মোবাইল ফোন নম্বরে ফোন দিয়ে তালিকায় ২৪৮ থাকা নূরুন্নাহার পিরগঞ্জের এবং ২৫৮২ নম্বরের মনিরুজ্জান গাজিপুরের বাসিন্দা বলে জানা যায়। এরকম জানা-অজানা লোকের নামের টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ ইউপি সদস্যদের।
ভিজিএফ ছাড়াও উপজেলা পরিষদ থেকে প্রাপ্ত ইউনিয়নটির বাৎসরিক ভূমি হস্তান্তর কর ১% এবং হাট বাজার ব্যবস্থানার ১৫% টাকা উন্নয়ন কাজে ব্যায় না করে নিজে আত্মসাত করেছেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। ইউনিয়নটিতে ২০২০-২০২১সালের টিআর,কাবিখা,এডিপি,এলজিএসপিসহ অন্যান্য উন্নয়ন বরাদ্দ ছয়নয় করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
ইউপি সদস্য ছইফুর রহমান জানান, এবার ভিজিএফ নগত টাকা হওয়ায় ইউপি সদস্যদের কাছ থেকে যতসামান্য নাম নিলেও চেয়ারম্যান ৪হাজার ২৭১টি নাম রাখেন। এর মাঝে প্রায় ১২শ নামের বিপরীতে বরাদ্দ টাকা আত্মস্বাত করেন।
ইউপি সদস্য হুজুর আলী বলেন, ইউনিয়নটির সকল প্রকল্পের কাজ সঠিকভাবে বাস্তবায়ন না করেই সিংহভাগ টাকা আতœসাৎ করেন চেয়ারম্যান। তিনি আরও জানান, চেয়ারম্যানের অনিয়মের বিষয়ে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না।
চেয়ারম্যান আকমল হোসেন বলেন, শুরু থেকেই পরিষদের দুই-তিনজন সদস্য আমার বিরুদ্ধে লেগে আছে। তারা ইতোপূর্বে আমার বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ করেছিলো সেগুলো মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। ভিজিএফ এবং উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে কোন দুর্নীতি হয়নি। তারা আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য মিথ্যা অভিযোগ করেছে।
উপজেলা নির্বার্হী অফিসার নুর আহমেদ মাছুম বলেন, ভিজিএফ’র টাকা পায়নি এরকম কোন সুবিধাভোগী আমার কাছে অভিযোগ করেনি। ইউপি সদস্যদের অভিযোগটি এখন পর্যন্ত দেখিনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
