অন্যায়ভাবে সহকারি প্রধান শিক্ষক বরখাস্তের জের || সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা

রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:

দীর্ঘ ১৯ বছর সহকারি শিক্ষক পদে দায়িত্ব পালনের পর তাকে বাদ দিয়ে একই পদে অন্যকে নিয়োগ প্রদানের চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর আগে ওই শিক্ষককে স্কুলের উপস্থিতি খাতায় স্বাক্ষর করতে না দিয়ে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানিয়ে দেয়া হয়। স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক ওই অমানবিক ঘটনা ঘটিয়েছে বলে জানা গেছে।
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার দাঁতভাঙ্গা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ঘটনা এটি। ওই প্রতিষ্ঠানের সহকারি প্রধান শিক্ষক খলিলুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, ‘আমাকে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে সুনিদির্ষ্ট কারন বা অপরাধ ছাড়াই স্কুলে আসা বারন করা হয়। আমাকে কোনো কিছুই না জানিয়ে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। এরপর থেকে আমাকে স্কুলে ঢুকতে দেয়া হয় না। ৬মাসের আগের ওই ঘটনায় আমি অপেক্ষায় ছিলাম এবং স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক অনেক আবেদন নিবেদন করেছি। কিন্তু তারা আমার আবেদনে গুরুত্ব না দিয়ে আমার পদে (সহকারি প্রধান শিক্ষক) নতুন করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। এতে আমি ভীষন হতাশ হয়ে পড়েছি।

অসহায় ওই শিক্ষক আরো জানান, কোনো উপায় না পেয়ে স্কুল পরিচালনা কমিটি ও প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কুড়িগ্রাম সিনিয়র জজ আদালতে গত রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) মামলা দায়ের করি। বিজ্ঞ আদালত আগামি ৩০ সেপ্টেম্বর তারিখে অভিযুক্তদের আদালতে উপস্থিত হয়ে কারন দর্শানোর নির্দেশ প্রদান করে। অভিযোগে জানা গেছে, বিধিমোতাবেক দাঁতভাঙ্গা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারি প্রধান শিক্ষক পদে খলিলুর রহমানকে নিয়োগ দেয়া হয় ২০০০ সালের ১৩ আগস্ট তারিখে। নিয়োগ পেয়ে পরের দিন ১৪ আগস্ট যোগদান করেন ওই শিক্ষক। এরপর থেকে যথা সময়ে স্কুলে দায়িত্ব পালন করে আসছেন ওই শিক্ষক। বর্তমানে স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক ১৫ লাখ টাকার বিনিময়ে অন্য একজনকে নিয়োগ দেয়ার সব প্রস্ততি গ্রহণ করেছে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে স্কুলের প্রধান শিক্ষক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগে সহকারি প্রধান শিক্ষক খলিলুর রহমানকে স্কুল থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ওই পদে নিয়োগ দানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।’
রৌমারী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ও দাঁতভাঙ্গা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি সামিউল ইসলাম জীবন বলেন, ‘অর্থের বিনিময়ে অন্যজনকে নিয়োগের চেষ্টার বিষয়টি সত্য নয়। সহকারি প্রধান শিক্ষক পদ থেকে বরখাস্ত হওয়ার পর পদটি শূণ্য হয়ে পড়ে। একারনে নতুন করে নিয়োগের প্রস্ততি নেয়া হয়েছে।

Share Button