কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ
কুড়িগ্রামে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জেলার বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে।
ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে বিপদসীমার ৬৪ সেন্টিমিটার, নুনখাওয়া পয়েন্টে ৫০ সেন্টিমিটার ও ধরলার পানি সেতু পয়েন্টে বিপদসীমার ৬২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বেড়েছে অন্যান্য নদ-নদীর পানিও।
রোববার (২৮ জুন) নতুন করে প্লাবিত হতে শুরু করেছে ধরলা ও ব্রহ্মপুত্রের অববাহিকাসহ বিভিন্ন এলাকা।
ফলে জেলার চিলমারী, উলিপুর, সদর, রৌমারী, রাজিবপুর ও নাগেশ্বরীসহ ৮টি উপজেলায় নদ-নদীর অববাহিকার নিম্নাঞ্চলসহ প্রায় আড়াই শতাধিক চর ও দ্বীপচর প্লাবিত হয়ে পড়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ।
অস্বাভাবিকহারে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পরেছে চর ও দ্বীপচরের হাজার হাজার মানুষসহ গবাদিপশু। এরমধ্যে বৃষ্টিপাতের কারণে রান্না-বান্নাসহ শিশু, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীরা রয়েছে চরম ঝুঁকিতে।
ভয়াবহ পরিস্থিতি বিরাজ করছে বন্যা কবলিত এলাকাগুলোতে। করোনা পরিস্থিতিকে উপেক্ষা করে বন্যা মোকাবিলায় প্রাণ বাঁচাতে উঁচু স্থানে গাদাগাদি করে অবস্থান নিতে হচ্ছে বানভাসি মানুষ।

এসব এলাকার রাস্তা-ঘাট তলিয়ে থাকায় ভেঙ্গে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। তলিয়ে গেছে বন্যা কবলিত এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও। এ অবস্থায় নিচু এলাকার মানুষজন ঘর-বাড়ি ছেড়ে উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিতে শুরু করেছে। পানিবন্দি মানুষের মাঝে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।
কুড়িগ্রাম সদর ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের কাইমবড়াই বাড়ি গ্রামের কাদের মিয়া ও জয়নাল জানান, আমাদের এই গ্রামের সব বাড়ি-ঘর বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। একদিকে করোনা অন্যদিকে ভয়াবহ বন্যায় আমাদের জীবন শেষ ভাই। এমনিতেই আমাদের কাজকর্ম নাই তারপর আবার বন্যা, কি যে হবে বুঝতে পারছি না।
স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে বিপদসীমার ৬৪ সেন্টিমিটার, নুনখাওয়া পয়েন্টে ৫০ সেন্টিমিটার ও ধরলার পানি সেতু পয়েন্টে বিপদসীমার ৬২ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বেড়েছে অন্যান্য নদ-রদীর পানিও।
কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মোঃ রেজাউল করিম জানান, বানভাসী মানুষদের জন্য জেলার নয়টি উপজেলায় ৩০২ মেট্রিক টন চাউল ও শুকনো খাবার বিতরণের জন্য ৩৬ লাক্ষ ৬৮ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
