লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ
বিশ্বব্যাপী মহামারী আকার ধারণ করা করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ায় পুরো দেশে যখন সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থানে ঠিক তখনই সরকারী নির্দেশনা অনুসারে সাধারন মানুষকে সচেতন করতে গিয়ে হামলার শিকার হতে হলো লালমনিরহাটের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে।
ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার কুলাঘাট ইউনিয়নের চরকুলাঘাট এলাকায়। হামলার ওই ঘটনায় দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সাথে সাংবাদিক ও পুলিশসদস্যরাও আক্রান্ত হয়।
ঘটনার বিবরনে জানা যায়, চলমান করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার ও স্বাস্থ্য বিভাগের নির্দেশনা মোতাবেগ সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করণে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাহসিন কবিরের নেতৃত্বে একদল পুলিশ কুলাঘাট ইউনিয়নের অভিযানে যায়। সেখানে সন্ধ্যার পর একটি চায়ের দোকানে নিয়ম না মেনে আড্ডা চলছিল।
ফলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আইন প্রয়োগ করলে স্থানীয় একদল উশৃঙ্খল লোকজনের উষ্কানিতে আশে পাশের এলাকা থেকে লাঠিসোটা হাতে নিয়ে ম্যাজিস্ট্রেট রাহসিন কবিরকে অবরুদ্ধ করে রাখে।ঘটনাটির নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানতে পেয়ে সাংবাদিক সজিব আলম ছুটে যায় ঘটনাস্থলে। এসময় ঘটনার চিত্র ক্যামেরায় ধারণ করতে গিয়ে সাংবাদিকের উপর হামলার চেষ্টা চালায় সেখানকার উশৃঙ্খল লোকজন।
সেই সাথে ম্যাজিস্ট্রেট রাহসিন কবিরকে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টায় এগিয়ে এলে তাকে রক্ষা করতে ওই সাংবাদিক আহত হন। তাৎক্ষনিক ভাবে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এরপরে পুলিশের নিরাপত্তাকর্মীরা হেফাজতের সাথে ম্যাজিস্ট্রেট রাহসিন কবিরকে নিয়ে আসে।
লালমনিরহাট নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাহসিন কবির এই প্রতিবেদককে বলেন, করোনা ভাইরাস সংক্রমন রোধে জেলা প্রশাসনের ঘোষনা অনুযায়ী দুপুর ১টার পর ওষুধের দোকান ব্যাতিত সবরকম দোকানপাট বন্ধের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
কিন্তু ওই চায়ের দোকানের মালিক এই আদেশ অমান্য করে দোকানের ভিতরে লোকজন নিয়ে জনসমাগম পরিবেশ তৈরী করেছিল। তাই ভ্রাম্যমান আদালতের নিয়ম অনুসারে তাদের সবাইকে একশত টাকা জরিমানা করা হয়। এজন্য একদল উশৃঙ্খল লোকজনের উষ্কানিতে আশে পাশের এলাকা থেকে লাঠিসোটা হাতে নিয়ে আমাকে ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপর অতর্কিত ভাবে হামলা চালায়। লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজ আলম বলেন, তাৎক্ষনিক ভাবে ঘটনাস্থল থেকে ২ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
উল্লেখ্য যে, বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসের ভয়াল থাবা থেকে বাংলাদেশকে রক্ষার জন্য সম্পতি সন্ধ্যা ৬টার পর বাড়ির বাহিরে জনসাধারনের বের হওয়া নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। একই সাথে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে কাঁচাবাজার ও মুদি দোকান দুপুর ১টা পর্যন্ত সীমিত পরিসরে খোলা রাখার কথাও বলা হয় প্রজ্ঞাপনে। দেশব্যাপি বন্ধ করে দেয়া হয় রেল-যোগাযোগ সহ সকল গন পরিবহণ। সেই সাথে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় সাধারণ মানুষর যাতায়াতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
সরকার এতোকিছু পদক্ষেপ নিয়েছে দেশের সাধারণ মানুষের সুরক্ষার জন্য। অথচ অধিকাংশ সাধারণ মানুষ এখনোও অসচেতন ভাবে ঘোরাফেরা করছে পূর্বেও মতোই। ফলে সরকার করোনা মহামারী থেকে দেশবাসীকে রক্ষার জন্য সিভিল প্রশাসন ও পুলিশের পাশাপাশি সেনা বাহিনিকেও মোতায়েন করতে বাধ্য হয়। কিন্তু এতকিছুর পরেও সাধারণ মানুষ মানছেনা সরকারের কোনো পদক্ষেপ। উল্টো বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালনের সময় কিছু সংখ্যক উশৃঙ্খল মানুষের রোষানলে পরতে হচ্ছে এসব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে।
নয়াখবর/হাসান/এস
