করোনা থামাতে পারেনি শিশু মাসুদের সবজি ভ্যান!(ভিডিও সহ)

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ

১০ বছরের শিশু মাসুদ রানা কুড়িগ্রাম শহরে ভ্যান চালিয়ে সবজি বিক্রি করছে। ভ্যানটি ঠেলে ভাইকে সহায়তা করছিল পিঠেপিঠে বড় বোন আয়শা (১১)। ভ্যানের উপরে সবজির পাশে বসে ছিলেন প্রতিবন্দ্বী পিতা শহিদুল ইসলাম। বাবাকে আর সাজানো সবজি নিয়ে পিচঢালা পথে খুব কষ্টে এগিয়ে যাচ্ছিল শিশু ভাই-বোন। করোনা ভাইরাসের মহামারীর আতঙ্ক তাদের দমিয়ে রাখতে পারেনি।

বুধবার বিকেলে কুড়িগ্রাম শহিদ মিনার পেরিয়ে জেলা পরিষদ মার্কেটের সামনে তাদের দেখলে এই প্রতিবেদক এগিয়ে গিয়ে গাড়ি থামিয়ে তাদের সাথে কথা বলেন।

শহিদুল জানান, তাদের বাড়ি কুড়িগ্রামের ধরলা ব্রীজ পূর্বপাড়ে। তিনি ৪ সন্তানের জনক। বড় মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। ছোট মেয়ে আয়শা এবং ছেলে মাসুদ বাবাকে নিয়ে ভ্যানে করে ভ্রাম্যমান সবজি বিক্রি করে। আর এক ছেলে আছে বয়স ৫ বছর। আয়শা ও মাসুদ কওমি মাদ্রাসায় পড়ে।
এই করোনা পরিস্থিতিতে বাচ্চাদের নিয়ে বের হওয়ার ব্যাপারে শহিদুল হয়ে জানান, সংসার তো চালা নাইগবে। রাস্তাঘাটে লোকজন নাই। সারাদিনে ২শত টাকার মতন বিক্রি হয়েছে। এখন সবজিগুলো বাসি হলে আর কেউ নিবে না।তাতে পুজিটুকুও শেষ হয়ে যাবে। আর এই দুশত টাকা দিয়ে চাউল কিনলে কালকে আবার ব্যবসা করবো ক্যামনে!

কেউ কোনো সহায়তা দিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি এখনও কোনো সহায়তা পাননি বলে জানান। এছাড়াও প্রতিবন্দ্বী ভাতা’র ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি জানান, এ্যাতোদিন হয় নাই।

ভাইরাসের আগ্যোত কাগজপত্র জমাদিছি। কি হইল কবার পাই ন্যা। তারপরে তো সউগ বন্ধ হয়া গেইল।
শিশু মাসুদকে ভ্যান চালাতে কষ্ট হয় কিনা? জিজ্ঞেস করলে বাবা শহিদুলের দিকে চেয়ে একচিলতে হাসি দিয়ে বলে, ‘না, হয় না’।

পিতার কষ্টে নিজেকে শরিক মনে করে ছোট্ট মাসুদ ও আয়শা ভ্যানটি এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকে।

 

নয়াখবর/হাসান/এস

Share Button