এফ কে আশিক, ভূরুঙ্গামারী, কুড়িগ্রাম:
পরিবেশ রক্ষা ও সবুজায়নের পাশাপাশি বৃক্ষরোপণকে মানবকল্যাণের একটি ইবাদত হিসেবে তুলে ধরে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে বর্ষাকালীন বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) জুমার নামাজের পর উপজেলার মইদাম খাঁন আতিয়ূর রহমান আদর্শ আহ্ছানিয়া মিশনের উদ্যোগে এ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। কর্মসূচির অংশ হিসেবে মইদাম ভুসিরভিটা জামে মসজিদের মুসল্লিদের মধ্যে শতাধিক ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে ভুসিরভিটা হাজীপাড়া মসজিদ প্রাঙ্গণ ও প্রধান সড়কের পাশে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ইসলাম প্রকৃতি ও পরিবেশ সংরক্ষণের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। মহানবী (সা.) বলেছেন, “কোনো মুসলিম যদি একটি গাছ রোপণ করে, এরপর মানুষ, পাখি বা অন্য কোনো প্রাণী তা থেকে উপকৃত হয়, তবে তা তার জন্য সদকা হিসেবে গণ্য হয়।” তাই বৃক্ষরোপণ শুধু পরিবেশ রক্ষার কাজ নয়, এটি একটি চলমান সওয়াবেরও মাধ্যম। তারা সবাইকে অন্তত একটি করে গাছ লাগিয়ে তার পরিচর্যার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জ্বি ফুলবাড়ি দরগাহ শরীফের খাদেম মোকাদ্দেছ আলী, ভুসিরভিটা জামে মসজিদের ইমাম শামসুজ্জামান, মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহরাব হোসেন, মইদাম খাঁন আতিয়ূর রহমান আদর্শ আহ্ছানিয়া মিশনের সহসভাপতি ও উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এফ কে আশিক, মিশনের সাধারণ সম্পাদক নুর মোহাম্মদ, পাথরডুবি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল হাসেম, বাউশমারী ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার বিএসসি শিক্ষক হারুনুর রশিদ এবং উপজেলা প্রেসক্লাবের কার্যনির্বাহী সদস্য আবু সুফিয়ান পারভেজ। এ ছাড়া মিশনের সদস্য, মুসল্লি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকেরা জানান, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং মানুষকে বৃক্ষরোপণে উদ্বুদ্ধ করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও ধর্মীয়, সামাজিক ও পরিবেশবান্ধব বিভিন্ন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত তরিকাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান- মইদাম খাঁন আতিয়ূর রহমান আদর্শ আহ্ছানিয়া মিশন “স্রষ্টার ইবাদত ও সৃষ্টির সেবা” এই মূলমন্ত্র ধারণ করে দীর্ঘদিন থেকে উপজেলায় ধর্মীয় অনুষ্ঠান, সামাজিক উন্নয়ন ও মানবসেবামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে।
