আ. হামিদ টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল পৌরসভার ময়লা বা বর্জ্য ফেলার জায়গা না থাকায় অবর্ণনীয় দুর্ভোগে পৌরবাসী। এই বর্জ্য এখন পৌরবাসীর গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্জ্য ফেলার জন্যে পৌরসভার নিজস্ব জায়গা না থাকার সংকটে প্রতিনিয়ত নানা স্থান থেকে দুই তিন দিনের আবর্জনা সংগ্রহ করে ট্রাকের মধ্যে তুলে ময়লা সহ গাড়ি পৌরসভার ভিতরে ঢুকিয়ে রেখে পরবর্তীতে সুযোগ সুবিধা মতো সেগুলো অদূরে ফেলে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে সমাজকর্মী শাহেদ আহমেদ আজ শুক্রবার (২৬ জুলাই) জানান, ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ঘাটাইল পৌরসভার ময়লা বা প্রাকৃতিক বর্জ্য ফেলার জায়গা নেই। জনগণ তাদের নিজস্ব যায়গায় ময়লা ফেলতে দেয় না। বর্জ্য ফেলতে গেলে এলাকাবাসী পৌরসভার কর্মীদের বাধা দেয়। প্রায়শই এমন হয়, নানা জায়গা থেকে দুই তিন দিনের বর্জ্য সংগ্রহ করে ট্রাকের মধ্যে তুলে ময়লা সহ গাড়ি পৌরসভার ভিতরে ঢুকিয়ে রেখে পরবর্তীতে সুযোগ সুবিধা মতো সেগুলো দূরে কোথাও ফেলে দেওয়া হয়।
ক্ষোভের সাথে তিনি আরও জানান, ঘাটাইল পৌরসভার জনবসতি বৃদ্ধি পেতে পেতে সামনে আরও বৃদ্ধি পাবে, তখন বর্জ্যর পরিমাণ আরও বাড়বে। এখনই বর্জ্য ফেলা নিয়ে যে সমস্যা হচ্ছে ভবিষ্যতে এই দুর্ভোগের পরিমাণ বৃদ্ধিতে সেটি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। এ সমস্যা সমাধানে ঘাটাইলের প্রশাসন ও রাজনিতিক বৃন্দ কার্যকরভাবে সহযোগিতাও করছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে, জানান তিনি।
ঘাটাইল পৌরসভার মেয়র শহিদুজ্জামান খান বলেন, ময়লা ফেলার জায়গার জন্য তিনি টাংগাইল ডিসি অফিস থেকে শুরু করে ঘাটাইল উপজেলা প্রশাসন সহ সকলের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন, কিন্তু সমস্যা সমাধানে কেউ এগিয়ে আসছেন না। অতি শীঘ্র ময়লা ফেলার জন্য স্থায়ী ও কার্যকরী সমাধান না হলে এর থেকে দুঃখজনক আর কিছু হতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, জায়গার অভাবে ময়লা-আবর্জনা ভর্তি গাড়ি আমরা পৌরসভার ভিতরে রাখি, যেন সাধারণ নাগরিকদের সমস্যা বা দুর্ভোগ না হয়। এরপর রাতে আমরা পৌরসভার বাইরে যেখানে সুবিধাজনক জায়গা পাই সেখাই ফেলে দিয়ে আসি। অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও বর্তমানে এছাড়া আমার আর কোন বিকল্প উপায় নেই। আমি চাই আমার পৌরসভার নাগরিকরা যেন সুস্থ স্বাভাবিক জীবনযাপন করেন।
পৌর মেয়র আরও বলেন, সরকার আমাদের পৌরসভার বর্জ্য ফেলার জন্য সরকারি খাস জায়গা থেকে কিছু জমি বরাদ্দ দিতে পারে। প্রয়োজনে বর্জ্য ফেলার প্রয়োজনীয় জায়গা পৌরসভা নিজের টাকা দিয়ে কিনে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানে প্রস্তুত। এ ব্যাপারে তিনি পৌরবাসী, রাজনিতিক ও প্রশাসনের সু-দৃষ্টি কামনা করেন এবং এই সমস্যা সমাধানে কার্যকরী ভুমিকা রাখার উদাত্ত আহব্বান জানান।
