মো. রাফিউল ইসলাম (রাব্বি) স্টাফ রিপোর্টার, রংপুর:
উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তার কাউনিয়া পয়েন্টে নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বাড়ার কারণে রংপুরের কাউনিয়া, গঙ্গাচড়া, পীরগাছা উপজেলার চরাঞ্চলের গ্রামগুলো প্লাবিত হয়ে প্রায় ২০ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী হাফিজুর হক জানান, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে তিস্তা ব্যারেজের ৪৪টি গেট খুলে দেয়া হয়েছে। ব্যারেজ এলাকার চরাঞ্চলের গ্রামগুলোতে বন্যা দেখা দিয়েছে।
কাউনিয়া উপজেলা টেপামধুপুর ইউপি চেয়ারম্যান শফিকুল ইসলাম জানান, তার ইউপির বিশ্বনাথ, চরগনাই, হয়বৎখা ও বালাপাড়া ইউপির ঢুষমারা গ্রামের প্রায় শতাধিক পরিবার বন্যায় পানিবন্দী হয়ে পড়ে। বুধবার সকালে নদীর তীরবর্তী ১০ গ্রামের হাজারও পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। অনেক পরিবারকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
কাউনিয়ার ইউএনও মোছা. উলফৎ আরা বেগম জানান, সরকারিভাবে সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া আছে। পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় গঙ্গাচড়া উপজেলার নদীর তীরবর্তী লহ্মীটারী ইউপির চর শংকরদহ, চর ইচলী, বাগেরহাট, জয়রামওঝা, ইসবকুল গ্রামের ১০ হাজার পরিবার ও আলমবিদিতর ইউপির সাউথপাড়া, পাইকান, ব্যাংকপাড়া, হাজীপাড়া, আলমবিদিতর গ্রামের ৫শ’ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। কোলকোন্দ ইউপি চিলাখাল বেড়িবাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। সে সঙ্গে পাটসহ বিভিন্ন সবজির ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে।
লহ্মীটারী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী জানান, তিস্তার পানি হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় তার ইউপির চর এলাকার ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। ত্রাণ সহায়তা দিতে উপজেলায় যোগাযোগ করা হয়েছে। পীরগাছা উপজেলার ছাওলা,পাওটানা ইউপির চলগুলোতে ৪শ’ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।
রংপুর আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজার রহমান জানান, ৪৮ ঘন্টায় রংপুরসহ আশপাশ এলাকায় ১শ’ ৮০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। টানা বৃষ্টিতে বিভিন্ন অলিগলি প্লাবিত হয়ে গেছে। অনেক জায়গায় সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে।
রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান জানান, বুধবার বিকেলে কাউনিয়া পয়েন্টে ২৮ দশমিক ৬৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। বৃষ্টি হলে বিপদ সীমার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত বন্যার আশঙ্কা নেই।
