মুহাম্মদ আলী, বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি:
এখন পাহাড়ে বইছে মারমা সম্প্রদায়ের প্রানের উৎসব নবান্ন উৎসব, মারমাদের বিলুপ্ত প্রায় ঐতিহ্যবাহী লোকসংগীত ও লোকনৃত্য পরিবেশন, প্রি,খ্রে খ্রং,ডুংখলং বাদন ও ‘ক:কানু’ পাংখুং মঞ্চায়ন-পিঠামেলা উৎসব উপলক্ষে বান্দরবান সদর উপজেলার ২নং কুহালং ইউনিয়নের চেমি ডলু পাড়া মাঠ এলাকায় জুমের নতুন ফসল দেবতার নামে উৎসর্গ, প্রার্থনা, মারমা সম্প্রদায়ের জুম চাষের সরঞ্জামাদি ও জুমের নতুন ফসল প্রদর্শন, নতুন ধানের পিঠা মেলা, মারমাদের লোক সংগীত ও লোকনৃত্য প্রদর্শন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এ উপলক্ষে ৪ডিসেম্বর সোমবার সকালে চেমি ডলু পাড়া মাঠে জমকালো অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। দেবতার উদ্দেশ্যে জুমের প্রথম ফসল উৎসর্গ,শান্তি ও মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা ও মারমা নরনারীদের সম্মিলিত বর্নিল পোষাকে ঐতিহ্যগত নৃত্য, গান পরিবেশন উৎসবকে করেছে আরো আনন্দঘন। ‘কঃকানু’ পাংখুং মঞ্চায়ন ( সম্পূর্ণ কাহিনী) সোমবার রাত ৯টা থেকে সারারাত চলে।
ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনিস্টিউট,বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ এবং সাংস্কৃতিক বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের আয়োজনে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বান্দরবান ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনিস্টিউটের পরিচালক মং নু চিং। চেমি মৌজার হেডম্যান পুলু প্রু মারমা এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক কনভেনিং কমিটির আহ্বায়ক সিং ইয়ং ম্রো, জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক ও বান্দরবান প্রেসক্লাব সভাপতি আমিনুল ইসলাম বাচ্চু, ২নং কুহালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মংপু মারমা, সাবেক সভাপতি পাইলং মারমা, আ: লীগ নেতা ক্যাসিং মারমা, পাড়া কারবারি,ইউপি সদস্য চাইগ্য উ মারমা, ইউপি মহিলা মেম্বার,সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের উর্ধতন কর্মকর্তা, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনিস্টিউটের কর্মকর্তা বৃন্দ,সহ স্থানীয় জুমচাষী, পাড়াবাসী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা, বান্দরবান কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিকস মিডিয়ার সাংবাদিক বৃন্দ।
মারমাদের নানান রকমারি তৈরী পিঠা, জুম চাষে ব্যবহার করা যন্ত্রপাতি পরিদর্শন করে অতিথিরা। অনুষ্ঠানে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য সংস্কৃতি তুলে ধরে জুমের নতুন বিভিন্ন ফলমূল এবং সবজি সম্পর্কে সকলকে পরিচয় করিয়ে দেয়া আয়োজকেরা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ বলেন, মারমাদের ঐতিহ্যগুলো আজ বিলুপ্তির পথে,সেই ঐতিহ্যগুলো ধরে রাখতে হলে আমাদেরকে নিজেরদের সংস্কৃতিকে আগলে রাখতে হবে।
এসময় তিনি আরো বলেন, পার্বত্য এলাকার পরিবেশ প্রকৃতি ও সংস্কৃতি দেশে বিরল। ১১টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্টির পাশাপাশি বাঙ্গালীদের সহঅবস্থানে পার্বত্য এলাকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীরা নিজ নিজ সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্য সঠিকভাবে ধরে রাখলে এই ঐতিহ্য একসময় বিশ্বে বাংলাদেশের নামকে আরো সমাধিত করবে।
বান্দরবান ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনষ্টিটিউট এর পরিচালক মং নু চিং বক্তব্যে বলেন, এই ধরনের আয়োজনের মধ্য দিয়ে ক্ষুদ্র নৃগোষ্টির বিভিন্ন সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যগুলো সকলের মধ্যে পরিচিতি পায় আর এই সংস্কৃতি বেঁচে রাখার জন্য আমাদের সকল অপসংস্কৃতি থেকে দূরে থাকতে হবে। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে ক্ষুদ্র নৃগোষ্টি মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী পাংখু ও জ্য নৃত্য এবং লোকসংগীত পরিবেশন করে মারমা শিল্পীরা।
