জেলা প্রতিনিধি, কুড়িগ্রাম:
কুড়িগ্রামে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের শিক্ষাবৃত্তি পেলো দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থী মোনালিসা আক্তার।
বৃহস্পতিবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে মোনালিসা আক্তারের হাতে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের ব্যাগ, ছাতা, খাতা, কলম, উচ্চ মাধ্যমিকের বই এবং নগদ টাকা তুলে দেওয়া হয়। এসময় বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবক সাদিকুর রহমান ও সাংবাদিক জাহানুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
জানা যায়, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের ভোগরাম গ্রামের দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থী মোনালিসা আক্তার মুন্নি। তার বাবার নাম আব্দুল মোমিন। তার বাবা দিনমজুরী করেন। মুন্নি পাঁচপীর ডিগ্রি কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।
আগামী মাসের ৫ অক্টোবর তার উচ্চ মাধ্যমিকের প্রথম বর্ষ সমাপনি পরীক্ষা। কিন্তু উচ্চ মাধ্যমিকে উঠার এক বছর অতিবাহিত হলেও দারিদ্রতার কারণে মুন্নি বই কিনতে পারেনি। পরে স্থানীয় বাসিন্দা জাহানুর রহমান বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনকে বিষয়টি অবহিত করলে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন তাকে উচ্চ মাধ্যমিকের বই, নগদ টাকা, একটি ছাতা এবং এক বছর লিখতে পারে সে পরিমান খাতা ও কলম প্রদান করেন।
বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের শিক্ষা উপবৃত্তি পেয়ে মোনালিসা আক্তার জানান, আমাদের নিজেদের জমাজমি নেই। মা অন্যের বাসায় কাজ করে সেখান থেকে যে আয় করে সেটা দিয়ে কোনরকম কষ্টে করে পরিবার চলে। দুই মাস থেকে মা অসুস্থ। মায়ের চিকিৎসা করাবো সেই সক্ষমতা পরিবারের নেই।
আমার বই কিনবো কিভাবে? অথচ আগামী মাসের ৫ তারিখ আমার প্রথম বর্ষের ফাইনাল পরিক্ষা। বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন আমায় শিক্ষাবৃত্তি দিয়েছে। জীবনে কখনো একসাথে এতোগুলো খাতা পাইনি। বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের ব্যাগ, ছাতা এবং নগদ অর্থ পেয়েছি। নতুন বই পেয়েছি। আমি খুব খুশি।
সাংবাদিক জাহানুর রহমান জানান, মুন্নি আমার এলাকার দরিদ্র পরিবারের মেধাবী শিক্ষার্থী। আমি কাছ থেকে তার পরিবারের দারিদ্রতা দেখেছি। কিন্তু মুন্নি এই দারিদ্রতার সাথে লড়াই করে ছোটবেলা থেকে পড়ালেখা করে যাচ্ছে। মাধ্যমিকে সরকার থেকে বই ফ্রি দেওয়া হতো তাই পড়ালেখায় তেমন অসুবিধা হতো না। কিন্তু উচ্চ মাধ্যমিকের প্রথম বর্ষের ফাইনাল পরিক্ষা সামনের মাসে কিন্তু মুন্নি এখনো বই কিনতে পারেনি। পরে বিষয়টি বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনকে জানালে তারা মুন্নির জন্য এককালীন শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থা করেন। আমি মুন্নির মতো মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনকে ধন্যবাদ জানাই।
বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের অপারেশন ইনচার্জ মো. হাসিব মিয়া জানান, শিক্ষার প্রসারে প্রতি বছর বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন শিক্ষা বৃত্তি প্রোগ্রাম করে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৩ সালে সারা দেশ ব্যাপী বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় কয়েক হাজার শিক্ষার্থীকে শিক্ষা বৃত্তি দেওয়া হয়। কিছুদিন আগেও কুড়িগ্রামে দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে ৫ লক্ষ টাকার শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়েছ। জেলার ১০০ জন শিক্ষার্থীদের মাঝে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন এই শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করে। সেসময় মোনালিসা আক্তারের সন্ধান আমরা পাইনি। পরে জাহানুর রহমান খোকন ভাইয়ের মাধ্যমে মোনালিসা আক্তারের বই কিনতে না পারার খবর শুনে তারজন্য নতুন বই ও এককালীন শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থা করেছি। দারিদ্রতা জয় করে মোনালিসারা এগিয়ে যাক বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন সেই প্রত্যয় নিয়ে দেশব্যাপী কাজ করে যাচ্ছে।
