অভিযোগের পাহাড় নিয়ে বিএমডিএ-এর নাহিদের বদলি || নাগেশ্বরীতে জনমনে স্বস্তি

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:

অবশেষে বদলির আদেশ হয়েছে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) নাগেশ^রী জোন অফিসে কর্মরত সহকারি মেকানিক (ইলেক্ট্রিক) নাহিদ আলীর। গত ১৪ জুন এক অফিস আদেশে পঞ্চগড় রিজিয়ন দপ্তরে তাকে যোগদানের জন্য বলা হয়। আদেশে আগামী ১৯ জুনের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থলের দায়িত্ব হস্তান্তর করে ওইদিন সংযুক্ত কর্মস্থলে যোগদান করতে বলা হয়েছে। না করলে ২০ জুন তিনি সরাসরি ছাড়পত্র প্রাপ্ত হবেন। তার বদলিতে জনমনে স্বস্তি ফিরেছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী অনেকেই।

এর আগে গত ২৫ মে অধিদপ্তরের সচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) শিবির আহমেদ স্বাক্ষরিত চিঠিতে নাহিদের বর্তমান কর্মস্থলসহ পূর্বের কর্মস্থলগুলোতে তার অসংখ্য দুর্নীতি ও অনিয়ম উল্লেখ করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান কার্যালয়। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা কেন করা হবে না সে বিষয়টিও জানতে চাওয়া হয় চিঠিতে। চিঠির জবাব দেয়ার পর তার বদলির আদেশ জারি করা হয়।

 

কারণ দর্শানোর চিঠি থেকে জানা যায়, নাহিদের বিরুদ্ধে সোলার সেচ, সেচের লাইসেন্স ও চাকুরি দিতে চেয়ে জনগণের অর্থ আত্মসাৎ, সেচ মালিকদের সাথে অশোভনীয় আচরণসহ নানা অভিযোগ উঠে এসেছে। এছাড়াও পূর্বের কর্মস্থলে অর্থ আত্মসাৎ কর্মকর্তা কর্মচারীদের সাথে খারাপ আচরণ, হামলা ছাড়াও একাধিক নারী কেলেঙ্কারীর অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে ওই চিঠিতে। সাতদিনের মধ্যে এসব অভিযোগের বিষয়ে জবাব চাওয়া হয়। একইসাথে তার বিরুদ্ধে কেন বিভাগীয় মামলা রুজু করা হবেনা বিষয়টি জানতে চাওয়া হয়।

নাহিদ আলী গত বছরের ৬ মার্চ নাগেশ্বরী অফিসে সহকারি মেকানিক (ইলেক্ট্রিক) পদে যোগদান করে নিয়ম বহির্ভূতভাবে হয়ে যান উপ-সহকারি প্রকৌশলী। সোলার পাম্প, সেচ লাইসেন্স, চাকুরি দেয়াসহ নানা অজুহাতে টাকা হাতিয়ে নেয়াসহ এলএলপি সেচ চালকদের প্রশিক্ষণ ফি আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। সেচ চালকদের সাথে অশোভনীয় আচরণের একাধিক লিখিত অভিযোগ হয়। অভিযোগ হলেও আমলে নেয়া হয়নি। জনশ্রæতি ছিল, বিএমডিএ রংপুর জোনের এক বড় কর্মকর্র্তার আত্মীয় হওয়ায় ব্যবস্থা নেয়া হয়নি নাহিদের বিরুদ্ধে। এতে বেপরোয়া হয়ে ওঠেন নাহিদ। এখানে গড়ে তোলেন মাস্তান বাহিনী। তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে মাস্তান বাহিনী দিয়ে তাকে ভয়ভীতি দেখাসহ তার উপর হামলা করেন। গভীর নলক‚প রক্ষনাবেক্ষন কাজের বরাদ্দকৃত অধিকাংশ টাকা ভুয়া বিল ভাউচার করে আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে।

কারণ দর্শানোর চিঠিতে নাহিদ আলীর বিরুদ্ধে পূর্বের কর্মস্থলগুলোতে নারী কেলেঙ্কারীসহ এরকম অসংখ্য অভিযোগের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। জয়পুরহাট দপ্তর কর্মকালীন অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে অসদাচরণ, উদ্ধর্তন কর্মকর্তা মোস্তাক আহম্মেদ ও সেজান আশরাফকে অপদস্ত করেছেন। গভীর নলক‚পের মিটার টেম্পারিং করে টাকা আত্মসাৎ করায় জয়পুরহাট থেকে তাকে নাগেশ^রী অফিসে বদলি করা হয়।
গাইবান্ধা অফিসে মেকানিক আব্দুল হান্নানকে (বর্তমানে অবসর) হুমকি প্রদান করে। সেখানেও তার স্থানীয় বাহিনী ছিল। সে বাহিনী নিয়ে নিরাপত্তা প্রহরী হাফিজুর রহমানের মাথা ফাটিয়ে গাইবান্ধা হতে পালিয়ে যান। ওই ঘটনায় মামলা চলমান। গোবিন্দগঞ্জ জোন দপ্তরেও কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাথে খারাপ আচরনসহ গুদামরক্ষক আনোয়ার হোসেনকে মারপিট, গভীর নলক‚পের মিটার টেম্পারিং এর অভিযোগ রয়েছে। পীরগঞ্জ অফিসে গভীর নলক‚পের প্রি-পেইড মিটার টেম্পারিং করে অর্থ আত্মসাৎ করায় গভীর নলক‚প অপারেটরদের সাথে ঝামেলা হলে পীরগঞ্জ ছেড়ে গা-ঢাকা দেন। কারণ দর্শানোর চিঠিতে দেখা গেছে তার পূর্বের প্রত্যেকটি কর্মস্থলে অনিয়ম-দুর্নীতি ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাথে খারাপ আচরণ করার অভিযোগ ছিল। নাগেশ্বরী অফিসেও ছিল তার অনিয়মের জাল। স্থানীয় একটি ক্যাডারবাহিনী। এখানেও ছিলেন মারমুখি। অফিসের চুক্তিভিত্তিক অফিস সহায়ক এরশাদুল হককে গত ২৩ ফেব্রæয়ারি রাত সাড়ে ১১টার দিকে শহরের বিএসসি মোড়ে বাহিনী নিয়ে মারধর করেন। এতে মাথা ফেটে গেলে এরশাদকে নাগেশ্বরী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী এরশাদুল। পরে একটি মহলের চাপে অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি গোপনে মীমাংসা করতে বাধ্য হয় এরশাদ।

এ বিষয়ে কথা বলতে সহকারি মেকানিক (ইলেক্ট্রিক) নাহিদ আলীর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও রিসিভ হয়নি। বিএমডিএ নাগেশ্বরী উপজেলা প্রকৌশলী মাহবুব আলম জানান, বদলির আদেশটি পেয়েছেন তিনি। এর আগের কারণ দর্শানের চিঠির বিষয়ে বলেন, তার জবার দিয়েছে। সেটা পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত ডিপার্টমেন্ট নেবে।

 

Share Button