ভুরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রাম জেলার ভুরুঙ্গামারী উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে ইরি-বোরো রোপনে শীতের ঠান্ডাকে হার মানিয়ে ফসলের মাঠে কৃষক-কৃষাণীরা সারাক্ষণ ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। জমিতে সেচ, হালচাষ, সার প্রয়োগ, বীজ-চারা উঠানো ও প্রস্তুতকৃত জমিতে চারা রোপণ করার প্রতিযোগিতায় নেমেছে কৃষকরা।
উপজেলাগুলোর বিভিন্ন এলাকাঘুরে দেখা যায়, মাঘের প্রচন্ড শীত ও তীব্র ঠান্ডাকে উপেক্ষা করে সামান্য রোদ পেয়ে কৃষকেরা অতি উদ্দমের সঙ্গে ভোর না হতেই ফসলের মাঠে নেমে পড়ে এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত একটানা বোরো রোপনে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কোদাল দিয়ে জমি সমান করা, ক্ষেতে চাষ করা, পানি দেয়া, ক্ষেতের আইল ঠিক করা, আগাছা পরিস্কার, গোবর ও সার ছিটানো সহ নানা কাজে দারুণ ব্যস্ত কৃষক।
উপজেলার চর-ভুরুঙ্গামারী ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের কৃষক আব্দুল আজিজ জানান, শীতের প্রচন্ড কনকনে ঠান্ডার কারণে আবাদ করার সময় অনেকটা পিছিয়ে গেছে। তাই এ সময় পুরণ করা লক্ষ্যে সারাক্ষণ পরিশ্রম করে বোরো চারা জমিতে রোপন করছি।
তিলাই ইউনিয়নের দক্ষিন তিলাই গ্রামের কৃষি শ্রমিক কামাল হোসেন বলেন, শীতের কনকনে ঠান্ডা উপেক্ষা করে পেটের দায়ে কৃষি শ্রমিকের কাজ করে কষ্ট হলেও প্রতিদিন চারশত টাকা রোজগার করে সংসার চালাচ্ছি।
ভুরুঙ্গামারী উপজেলার দেওয়ানের খামারের বোরো চাষী মিজানুর রহমান জানান, এবারের শীতের ঠান্ডায় অত্র উপজেলায় বোরো চারাগুলো ছোট ও লালচে হওয়ায় শ্রমিকদের প্রতি বিঘায় মুজুরী ১ হাজার ৮শ টাকা থেকে ২ হাজার টাকা দিতে হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে ১০টি ইউনিয়নে ১৬ হাজার ৪০৫ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ও বিভিন্ন জাতের ধান আবাদের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কৃষি প্রণোদনার অংশ হিসেবে উপজেলায় ৫ হাজার কৃষককে উফশী জাতের ৫ কেজি বীজ, ১০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি সার প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও ৩ হাজার ৩শ কৃষককে ২ কেজি উচ্চ ফলনশীল জাতের বীজ দেয়া হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুজন কুমার ভৌমিক বলেন, চলতি বোরো মৌসুমে ইরি-বোরো ধান চাষে কৃষকদের সঠিক পরামর্শ দিতে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাগন সার্বক্ষনিক মাঠে কাজ করছেন। বিদ্যুত, সার ও ডিজেলের কোন সংকট না থাকার কারনে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়ে বেশি হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে বলে তিনি আশা করছেন।
