কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
অবিশ্বাস হলেও সত্য। মৃত ব্যক্তির কবর খননের সময় কবরের দুই পাশের দেয়ালে আরবি অক্ষর লেখা বের হয়েছে। কবরের দুই পাঁজরেÑপশ্চিমে বিসমিল্লাহ ও সুরা ইয়াছিনের অক্ষরের কিছু অংশ এবং পূর্ব পাশে রয়েছে মীম হা মীম দাল (মোহাম্মদ) নাম। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় অলৌকিক এ ঘটনা ঘটেছে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার পশ্চিম পানিমাছকুটি গ্রামে। খবর ছড়িয়ে পড়লে এ দৃশ্য এক নজর দেখার জন্য হাজার হাজার মানুষের ঢল নামে। ভীড় সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
জানা গেছে, ওই গ্রামের মৃত আঃ জব্বারের ছেলে ইসমাইল হোসেন (৩৮) ঢাকার মোহাখালীতে ব্র্যাকে চাকরী করেন। বুধবার রাত ১০টায় তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। বৃহস্পতিবার সকালে স্বজনেরা তার বাড়ীর বাহির উঠানে লাশ দাফনের প্রস্তুতি নেন। এ সময় স্থানীয় আব্দুল বারি ও আমির আলী কবর খুঁড়তে শুরু করেন। খনন শেষে হাসুয়া দিয়ে চাকচিক্য করার সময় কবরের দুই পাঁজরেÑপশ্চিমে বিসমিল্লাহ ও সুরা ইয়াছিনের অক্ষরের কিছু অংশ এবং পুর্ব পাশে মীম হা মীম দাল (মোহাম্মদ) নাম আরবি অক্ষর বেরিয়ে আসে। বিষয়টি দেখে প্রথমে তারা চমকে যান। পরে ধারালো ব্যাকি (হাসুয়া) দিয়ে তারা মাটি চেঁচতে শুরু করেন। কিন্তু তাতে লেখা মিশে না গিয়ে আরও স্পষ্ট হয়ে বেড়িয়ে আসে। যতবার মাটি কেটে দেন ততবারই লেখা মিশে না গিয়ে পরিস্কার হয়ে ওঠে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে মুহুর্ত্যরে মধ্যে হাজার মানুষের ঢল নামে ওই লেখা স্বচক্ষে দেখার জন্য।

মৃতের বড় ভাই ইব্রাহিম আলী জানান আমার ছোট ভাই নামাজি ছিলেন । আমার জানামতে বেঁচে থাকা অবস্থায় সে কোন দিন মিথ্যা কথা বলেনি। তার স্ত্রী সন্তানও নামাজ কালাম পড়েন নিয়মিত। তার ৮ বছরের ছেলে মাদ্রাসায় পড়ে ।
উত্তর শিমুলবাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নুরনবী মিয়া, পানিমাছ কুটি মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক গোলাম মর্তুজা বকুল সহ অনেকে জানান, কবরে আরবি অক্ষর লেখা আমাদের জীবনে দেখি নাই। এই প্রথম স্বচক্ষে দেখলাম। এটা অলৌকিক ঘটনা ।
ফুলবাড়ীর নন্দিরকুটি চৌপথী জামে মসজিদেও খতিব হাফেজ মাওলানা আঃ হক জানান. কবরের দুই পাঁজরেÑপশ্চিমে বিসমিল্লাহ ও সুরা ইয়াছিনের কিছু অংশ এবং পুর্ব পাশে রয়েছে মীম হা মীম দাল (মোহাম্মদ) নাম রয়েছে। আমরা নিজেরাই পড়েছি। এটা আল্লাহর কুদরতি। ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) রাজিব কুমার রায় জানান, খবর শুনে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। দ্রæত লাশ দাফনের জন্য জনপ্রতিনিধিদের বলা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার তৌহিদুর রহমান জানান, খবর শোনার পর পুলিশকে জানানো হয়েছে। নিরাপত্তার বিষয়টি দেখবেন তারা দেখবেন।
