ফুলবাড়ীতে সাজিয়ে দেওয়া হল পুরনো ঐতিহ্যের আফসার দা’র দোকান

নুরনবী মিয়া, ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘ফুলবাড়ী জছিমিয়া মডেল সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়’ ও তৎসংলগ্ন ‘ফুলবাড়ী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে’ যারা পড়েছেন তাঁরা আফসার দাদার (সংক্ষেপে ‘দা) দোকানের আচার, আইসক্রীম, শনপাপরি, তিলের খাজা, চিপস, বিস্কুট বা পান-সুপারি খাননি তা ভাবাই যায় না। আফসার ‘দার দোকানটি চালু হয়েছিল আনুমানিক ১৯৮০ সালের দিকে।

আশি-নব্বইয়ের দশকে শিক্ষার্থীরা স্কুলে এসে মুখরোচক কিছু কেনার জন্য ক্লাসের ফাঁকে ছুটে যেত আফসার দা’র দোকানে। সেকারিন, গুড়, চিনি, হলুদ, মরিচ, মসলা দিয়ে বানানো চালতার আচার, জলপাইয়ের আচার, বড়ইয়ের আচার, আমের আচারের পসরা সাজিয়ে বসতো আফছার দা। গরমের দিনে তৃষ্ণা মেটানোর জন্য আট আনা (৫০ পয়সা) মূল্যের অপূর্ব স্বাদের আইসক্রীমও পাওয়া যেত।

আফসার দা বর্তমানে বেঁচে নেই। তিনি স্ত্রী ও তিন সন্তান রেখে পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন ২০১২ সালে। দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। তারা এখন স্বামীর সংসারে। আর ছেলের বয়স বর্তমানে প্রায় ২৮ বছর। সে বেকার। পরিবারের আর কোন আয়ের উৎস না থাকায় আফছার দা’র স্ত্রী রোকসানা বেওয়া কোনরকমভাবে দোকানটার হাল ধরে রেখেছেন। এখনও স্কুলমাঠের এক কোণে দোকান খুলে জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি। কিন্তু অভাব অনটনে দোকানের ঐতিহ্যটা ধরে রাখতে পারেননি। এত ছোট দোকান দিয়ে দারিদ্রতাকে মোচন করতেও হিমশিম খাচ্ছেন তারা।

জছিমিয়া স্কুলের অংশ হয়ে থাকা আফসার ‘দার দোকানের এরকম করুন অবস্থা ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে নজরে আনেন স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষার্থী মিজানুর রহমান উল্লাস (বর্তমানে উপ কর কমিশনার হিসেবে ঢাকায় কর্মরত)। পরে তিনি বৃহস্পতিবার (৭ মে ২০২০) ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রাণের টান থেকেই ফেসবুকে পোস্টকারীর মাধ্যমে ৬,০০০ টাকার মালামাল ক্রয় করে দোকানটি সাজিয়ে দেন।

মিজানুর রহমান উল্লাস বলেন, আফছার দা’কে আমরা মনে রাখতে পারিনি। কিন্তু তাঁর চোখে চোখ রাখা হাজারও উজ্জ্বল মুখ আজ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। কিন্তু আফসার দা’র স্ত্রী রোকসানা বেওয়া শুধু চিন্তা করছে দুবেলা ভাতের জন্য। রোকসানা বেওয়ার জীবন যুদ্ধকে তাই সম্মান জানান তিনি। সারা বাংলায় এরকম হাজারো আফসার ‘দার দোকান বা রোকসানা বেওয়া আছে। আপনি, আমি সকলে যদি নিজ নিজ অবস্থানে থেকে মানবিকতার হাত বাড়িয়ে ক্ষুদ্র সহায়তা নিয়ে হলেও তাদের পাশে দাঁড়াই তাহলে তাঁরা একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারবে।

এসময় রোকসানা বেওয়ার ক্ষুদ্রপণ্যের তালিকা অনুযায়ী পণ্যগুলো ক্রয় এবং সার্বিক সহযোগিতা করার জন্য ফেসবুকে পোস্টকারী সেই ছাত্রনেতা রাধে অন্তর রায় (ঢাকা কলেজের ছাত্র এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক) ও তার টীমের সদস্য তরুন নির্মাতা রাহি আবদুল্লাহ, বাঁধন, দ্বীপ, আরিফ, নাঈম ও পিয়ালকে অন্তরের অন্তরস্থল থেকে ভালোবাসা ও ধন্যবাদ জানান।

Share Button