প্রথম রমজানে কৃষকের ধান কেটে ঘরে তুলে দিল কায়েতপাড়া ছাত্রলীগ

শাকিল আহমেদ, নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনার আদেশক্রমে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য এর নির্দেশনায় কৃষকের এই ক্রান্তিলগ্নে রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের ইছাখালি এলাকার কৃষক আব্দুল মান্নারের ১ বিঘা জমির পাকা ধান কেটে ঘরে তুলে দেন কায়েতপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগ।

মহামারি করোনা ভাইরাসের আতংকে পুরো দেশ।প্রাণ বাঁচানোর তরে ঘরবন্দি সর্বস্তরের মানুষ। পেটে খাবারের টান পড়লেও শ্রমজীবী মানুষ প্রাণের ভয়ে বাহির হচ্ছে না।এতে ধান কাটার সময়ে শ্রমিক সংকটে পাকা ধান ঘরে তুলতে না পারার চরম দুশ্চিন্তায় কৃষক আব্দুল মান্নান। কোন উপায় না পেয়ে হতাশায় ভুগছেন এই কৃষক। এই কৃষকের দুর্দিনে নিজেদের প্রাণের মায়া ত্যাগ করে লকডাউন উপেক্ষা করে পাশে এসে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন কায়েতপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি পদ প্রার্থী ওমর ফারুক মেম্বার।

ওমর ফারুক নিজের জীবনের ঝুঁকি এড়িয়ে আরো ১৫ জন নেতাকর্মীকে সাথে নিয়ে ধান কাটতে চলে গেলেন কায়েতপাড়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের ইছাখালি এলাকায় কৃষক আব্দুল মান্নানের পাকা ধানের মাঠে এবং কাস্তে হাতে নেমে পড়েন হাটু সমান পানি ভরা খেতে ধান কাটতে।

২৫ এপ্রিল (শনিবার) কায়েতপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি পদ প্রার্থী ওমর ফারুক ছাত্রলীগের ১৫ জন নেতাকর্মীকে নিয়ে সকাল ৯ টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ওই কৃষকের ১ বিঘা জমির পাকা ধান কেটে ঘরে পৌঁছে দিলেন।

কৃষক আব্দুল মান্নান বলেন, চৈত্রের ধান পাকার এই সময়ে আমাদের ২১ বিঘা জমির ধান পেকে গেছে। কিন্তু করোনার ভাইরাসের কারণে কোন শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না।অনেক চেষ্টা করেও কোনো শ্রমিক যোগাড় করতে পারিনি।

এদিকে ধান পেকে নষ্ট হওয়ার উপক্রম। এতে আমরা দিশেহারা হয়ে পড়ি। আজ দেখলাম হঠাৎ একদল যুবক এসে আমাদের মাঠের পাকা ধান কাটছে। তারা ধান কাটতে নামার পরই আমি খবরটি পাই।তারা সকাল ৮ টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ১ বিঘা জমির পাকা ধান কেটে পরে বাড়িতেও পৌঁছে দেন। এতে আমি ও আমার পরিবার অনেক খুশি হয়েছি।

এ প্রসঙ্গে জেলা ছাত্রলীগ নেত ওমর ফারুক বলেন,বাংলাদেশ ছাত্রলীগ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া সংগঠন। দেশের যেকোন ক্রান্তিলগ্নে ছাত্রলীগ প্রধান ভূমিকা রেখেছে। সব সময় সাধারণ মানুষের স্বার্থের জন্যই রাজনীতি করে এসেছে। দেশ রক্ষার আন্দোলন ছাড়াও ব্যক্তি পর্যায়েও সব সময় ক্ষতিগ্রস্হ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। বর্তমানেও আমাদের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সব সময় এমন নির্দেশনা দিয়ে রেখেছেন।

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দের নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে শ্রমিক সংকটে পাকা ধান কাটতে না পারার খবর পেয়ে আমি কায়েতপাড়া ইউনিয়নের ছাত্রলীগের ১৫ জন নেতাকর্মীকে সাথে নিয়ে কৃষক আব্দুল মান্নান মিয়ার পাক ধান কেটে বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছি। এই মহৎ কাজ করতে পেরে আমরা অনেক আনন্দিত ও গর্বিত। ধান কাটার কাজে সাহায্য করে কায়েতপাড়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতা তৌকির আহমেদ, পরান, মুন্না, সানি পারভেস, ফয়সাল, নুর ইসলাম, জাহিদ, মিলন, মনির সহ আরো অনেকে।

Share Button