করোনাতেও স্বপ্ন দেখছেন কৃষক বোরো ধানে

নিউজ ডেস্কঃ

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে গোটা বিশ্ব আজ আতঙ্কিত। লকডাউনে ঘরবন্দী মানুষ। বন্দিজীবনে সবার জমানো অর্থ আর খাদ্য খেয়ে প্রায় শেষের দিকে। কিন্তু দিনাজপুরের বোরো চাষিরা ঘর থেকে বের হয়ে স্বপ্ন দেখছেন মাঠে ফলানো বোরো ধানে। পুরো জেলার মাঠে মাঠে সবুজের সমাহার। ধানের প্রতিটি গাছের মুখে বের হয়েছে শীষ। করোনা সংকটের এই পরিস্থিতিতে ধান ক্ষেতের মাঝেই স্বপ্ন দেখছেন বোরো চাষিরা।

জেলার হাকিমপুর (হিলি) উপজেলার জালালপুর গ্রামের ধানচাষি আকরাম হোসেন বার্তা২৪.কম-কে বলেন, দেশে তো করোনা আয়ছে। বায়ীত্তে (বাড়ি থেকে) বের হওয়া যাউছে না। এবার মুই তিন বিঘা জমিতে ইরি ধান লাগায়ছু। মাঠত ধান ভাল হইছে। ধান দেখে মোর মনটা জুড়ে যাউছে। বায়ীত (বাড়িতে) যা খাবার ছিলো তা প্রায় শেষ হচে। কেচু (কিছু) দিনের মধ্যে ধান কাটবা নাাগবে (লাগবে)। ঘরত (ঘরে) ধান উঠলে মোর আর কোনো চিন্তা নাই।

বিরামপুর উপজেলার কেটরা গ্রামের বোরোচাষি বাদল হোসেন বার্তা২৪.কম-কে বলেন, এই বছর ইরি মৌসুমে আমি প্রায় ১৮ বিঘা জমিতে বোরো ধান চাষ করেছি। অন্য মৌসুমের চেয়ে এবার আমার জমিতে ধানের ভালো ফলনের সম্ভাবনা দেখছি। ধানের কোনো রোগ বা পোকাড় আক্রমণ চোখে পড়ছে না। ধানের জমিতে যত ঘুরছি ততই ধান দেখে প্রাণ জুড়ে যাচ্ছে। আশা করছি অন্য বছরের চেয়ে এ বছরে ধানের ভালো ফলন পাবো।

দিনাজপুর জেলা কৃষি অধিদফতরের উপ-পরিচালক তৌহিদুল ইকবাল বার্তা২৪.কমকে জানায়, চলতি মৌসুমে জেলার ১৩টি উপজেলায় প্রায় ১ লাখ ৭১ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে হাইব্রিড, উফশী (উচ্চফলনশীল জাত) জাতের ধান চাষ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বোরো চাষিরা যাতে ভালো ফলন ঘরে তুলতে পারে সেজন্য জেলার প্রতিটি উপজেলার কৃষি কর্মকর্তারা নানা পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। আশা করছি আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে ধান কাটা মাড়ায় শুরু হবে।

এদিকে হাকিমপুর (হিলি) উপজেলা কৃষি অফিসার শামীমা নাজনীন বার্তা২৪.কম-কে জানায়, চলতি মৌসুমে উপজেলায় প্রায় ৭ হাজার ৩২৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। আমরা প্রতিনিয়ত মাঠে কৃষকদের পাশে থেকে সুপরামর্শ দিয়ে আসছি। প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না হলে এবারে বোরো চাষিরা ভালো ফলন ঘরে তুলতে পারবে।

নয়াখবর/হাসান/এস

Share Button