রাজশাহীঃকরোনা সংক্রমণ ঠেকাতে বাইরের জেলা থেকে কাউকেই আর বিনা পরীক্ষায় ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না রাজশাহীতে । বিশেষ করে উচ্চ সংক্রমণের জেলা ঢাকা, নারায়নগঞ্জ বা গাজীপুরের কেউ ঢোকার চেষ্টা করলে তাদের আটকে দেয়া হচ্ছে জেলার ৩ টি প্রবেশ পথে। পরীক্ষার জন্য নেয়া হচ্ছে প্রাতিষ্ঠানিক আইসোলেশন সেন্টারে। কেবল করোনা সংক্রমনের কোন লক্ষন না পেলেই মিলছে জেলায় প্রবেশের অনুমতি। এ উদ্যোগের কারণে রাজশাহীতে এখনো করোনার সামাজিক সংক্রমণ হয়নি, বলছে প্রশাসন। জেলায় এখন পর্যন্ত করোনা শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ৯।
রাজশাহী জেলার প্রবেশপথ পুঠিয়ার নওপাড়া। এই পয়েন্ট দিয়ে রাজশাহীতে ঢুকতে গিয়ে কঠোর তল্লাশির মুখে পড়ছে সব ধরণের পরিবহন। জেলার প্রতিটি প্রবেশমুখেই পুলিশের এমন চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। সংক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে পুলিশ সদস্যরাও যেন সংক্রমিত না হন, সেজন্য নেয়া হয়েছে ব্যবস্থা।
১২ এপ্রিল প্রথম করোনা রোগী শনাক্তের পরপরই রাজশাহীকে লকডাউন ঘোষণা করে জেলা প্রশাসন। আর চলতি মাসের শুরু থেকে অন্য জেলার বাসিন্দাদের প্রবেশ ঠেকাতে কঠোর হয় পুলিশ। গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ ফেরত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে রাখা হচ্ছে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে। মহাসড়কের পাশাপাশি জেলার সংযোগ সড়কগুলোতেও চলাচলকারীদের শরীরের তাপমাত্রা মাপা হচ্ছে।
সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে জেলার বড় বাজারগুলো স্থানান্তর করা হয়েছে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের মাঠে। জনসাধারণের নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের করোনার সংক্রমণ থেকে বাঁচাতে সরবরাহ করা হচ্ছে সব ধরণের সুরক্ষা সরঞ্জাম।
বিশ্লেষকদের মতে, পুলিশের এমন তৎপরতার কারণই জেলার করোনা পরিস্থিতি এখোন নিয়ন্ত্রণে আছে। পুলিশকে সহযোগীতায় সাধারণ মানুষকেও সচেষ্ট হতে হবে বলে মনে করছেন তারা।
রাজশাহী জেলায় মঙ্গলবার পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে ৭ জন। এদের মধ্যে ৬ জন ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে সেখানে গিয়েছেন। তবে একজনের সংক্রমণের উৎস এখনো পায়নি চিকিৎসকরা।
নয়াখবর/হাসান/এস
