প্রিয়জনের মুখটি শেষবারের মত দেখার সুযোগ নেই

মিলি সুলতানাঃ বৃহস্পতিবার আমেরিকায় মৃতের সংখ্যা নতুন রেকর্ড গড়েছে। ৪,৫৯১ জন মারা গেছে। এলমহার্স্ট হাসপাতাল যেন মৃত্যুর কারাগার। অনেকে ‘ডেথ জোন’ হিসেবে মার্ক করছে এলমহার্স্ট হাসপাতালকে। গেটের সামনে তাঁবু খাটিয়ে করোনাভাইরাসের পরীক্ষা চলছে। প্রতিদিনই প্রায় শ’খানেক করোনা রোগী মারা যাচ্ছে এই হাসপাতালে। হাসপাতালের সামনে সারি সারি লাশ।

সামনে ট্রাক দাঁড়িয়ে আছে সর্বক্ষণ। লাশ উঠছে আর উঠছে। আমেরিকার মূলধারার ইংরেজি সংবাদ মাধ্যমগুলোর কর্মীরা প্রায় সারাদিনই এই হাসপাতালটির সামনে রয়েছেন। মুলত কারেন্ট আপডেট দিচ্ছে ইংরেজি মিডিয়াগুলোই। অদ্ভুত এক ভয়ংকর স্থানে পরিণত হয়েছে জায়গাটি। আশেপাশের অ্যাপার্টমেন্টগুলোর বাসিন্দারা ভয়ে জানালা খুলছে না। আরোগ্য লাভের আশায় অনেকে পরিবারের ভাইরাস আক্রান্ত সদস্যকে গাড়ি বা অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামিয়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পৌঁছে দেয়া পর্যন্ত সান্নিধ্যে থাকছেন।

অনেকের ক্ষেত্রে সেটাই হয় শেষ দেখা। এরপর শুধু একটি নম্বর। সে নম্বরটি ধরে মরদেহ খুঁজতে হবে। তার জন্য আবার লং প্রসিডিওর। প্রিয়জনের মুখটি শেষবারের মত দেখার সুযোগ নেই। ভাইরাসের কারণে পুরো শরীর সিল করে দেয়া হয়। যাদের আত্মীয় স্বজন রয়েছে, তাদের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হচ্ছে। পরিবার থেকে আইডেন্টিফাই না করলে গণকবরে সমাহিত করছে লাশ। তবে এখানেও শনাক্ত করার সুযোগ থাকছে ১৪ দিন।

 

এরমধ্যে বডি আইডেন্টিফাই না হলে পুড়িয়ে ফেলা হয়। শুধু এলমহাস্ট হাসপাতাল নয় জ্যামাইকার কুইন্স হাসপাতাল, ব্রুকলিনের কনি আইল্যান্ড হাসপাতাল, ফ্ল্যাশিং হাসপাতাল, নিউ হাইড পার্কের লং আইল্যান্ড জুইশ হাসপাতাল ও ম্যানহাটানের বেলভিউসহ সব হাসপাতালের একই চিত্র।

নয়াখবর/হাসান/এস

Share Button