বাংটুর ঘাটে ধরলা সেতু নির্মাণে আলোর মুখ : পরিদর্শনে আসছে চীনা প্রতিনিধি দল

জাফর আহমেদ, কুড়িগ্রাম জেলা সংবাদদাতা:

কুড়িগ্রামের দীর্ঘদিনের অবহেলা, নদীভাঙন আর যোগাযোগ সংকটের ইতিহাসে যুক্ত হতে যাচ্ছে এক নতুন অধ্যায়। বহু প্রতীক্ষিত বাংটুর ঘাটে ধরলা নদীর ওপর মেগা সেতু নির্মাণের স্বপ্ন এবার বাস্তবতার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। আগামীকাল শনিবার সম্ভাব্য প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে আসছে একটি উচ্চপর্যায়ের চীনা প্রতিনিধি দল—আর এই খবরে আশায় বুক বাঁধছে কুড়িগ্রাম সদর ও ফুলবাড়ী অঞ্চলের লাখো মানুষ।
দীর্ঘদিন ধরে ধরলা নদী দুই পাড়ের মানুষের জীবনযাত্রাকে বিভক্ত করে রেখেছে। বিশেষ করে ফুলবাড়ী উপজেলার মানুষকে জেলা সদরে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে বছরের পর বছর। কৃষিপণ্য পরিবহন, শিক্ষা, চিকিৎসা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ভোগান্তি যেন ছিল নিত্যদিনের বাস্তবতা। অবশেষে সেই বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে ‘বাংটুর ঘাটে ধরলা সেতু’ নির্মাণের উদ্যোগ স্থানীয় মানুষের মনে নতুন স্বপ্নের জন্ম দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে আগামীকাল চীনা প্রতিনিধি দল সম্ভাব্য সেতু এলাকা সরেজমিন পরিদর্শন করবে। তাদের এই সফরকে ঘিরে পুরো এলাকায় এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের বিশ্বাস, এই সফরই বহু বছরের দাবিকে বাস্তব রূপ দেওয়ার পথে বড় অগ্রগতি হিসেবে কাজ করবে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, সেতুটি নির্মিত হলে শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থায় নয়, পুরো অঞ্চলের অর্থনীতি ও জীবনমানেও আমূল পরিবর্তন আসবে। কৃষিপণ্য দ্রুত বাজারজাত করা সম্ভব হবে, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় সহজ প্রবেশাধিকার তৈরি হবে। একইসঙ্গে কুড়িগ্রামের পিছিয়ে থাকা এই জনপদ উন্নয়নের মূল স্রোতে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে।
ধরলার দুই পাড়ের মানুষের বহু বছরের লালিত স্বপ্ন বাস্তবায়নের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছানোয় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা, সুধী সমাজ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এলাকাবাসী বলছেন, এই সেতু শুধু একটি অবকাঠামো নয়—এটি হবে উত্তরাঞ্চলের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির সেতুবন্ধন।
এলাকাবাসী আরও জানান, এই মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে যাঁরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, তাঁদের অবদান কুড়িগ্রামের মানুষ চিরদিন স্মরণ রাখবে। বিশেষ করে কুড়িগ্রামের কৃতি সন্তান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা (মন্ত্রীর মর্যাদা) রুহুল কবির রিজভী আহমেদ এবং কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও জেলা পরিষদ প্রশাসক সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ-এর আন্তরিক প্রচেষ্টা ও দূরদর্শী উদ্যোগের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন সর্বস্তরের জনগণ।
স্থানীয় বিশিষ্টজনেরা মনে করছেন, নেতৃবৃন্দের এমন আন্তরিক উদ্যোগের ফলেই কুড়িগ্রামের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা কাটিয়ে উন্নয়ন ও সম্ভাবনার নতুন দুয়ার উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। এখন পুরো অঞ্চলের মানুষের একটাই প্রত্যাশা—দ্রুত সময়ের মধ্যে শুরু হোক বহুল কাঙ্ক্ষিত ধরলা সেতুর নির্মাণকাজ।

Share Button