নীলফামারী প্রতিনিধি:
নীলফামারী কিশোরগঞ্জ সোনালী ব্যাংক শাখার ম্যানেজার শরীফ হাসান মুরাদ এখন প্রভাবশালী ভূমিদস্যু। ২০২৩ সাল থেকে অদ্যাবধি নিজ উপজেলায় চাকুরি করার সুবাদে তিনি জড়িয়ে পড়েছেন নানা অপকর্মে। তার নামে রয়েছে ব্যাংকে গ্রাহক হয়রানি, নিজ আত্নীয়-স্বজনদের উচ্চ ব্যাংক ঋণ প্রদান, সিসি লোনের বিপরীতে উৎকোচ গ্রহণ ও প্রভাব খাটিয়ে নিরীহ মানুষদের জমি দখলসহ নানান অভিযোগ। তার বদলি ও দৃষ্টাস্তমূলক শাস্তির দাবিতে রংপুর বিভাগীয় শাখার জেনারেল ম্যানেজার বরাবরে স্মারকলিপি দিয়েছেন শান্তিপ্রিয় এলাকাবাসী।
অনুসন্ধানে জানা যায়, নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ সোনালী ব্যাংক শাখার ম্যানেজার শরীফ হাসান মুরাদ বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে দেনাদরবার করে ২০২৩ সালে বদলী হন নিজ উপজেলায়। তার বাড়ি উপজেলা থেকে ৭ কিলোমিটার দূরে মাগুড়া ইউনিয়নের মাস্টার পাড়া গ্রামে। দীর্ঘ ৩ বছর বাড়ির পাশে কর্মরত থাকার কারণে তিনি হয়ে উঠেছেন এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি।
অভিযোগ উঠেছে রাষ্ট্রীয় ব্যাংকটির নিয়মনীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তিনি ব্যাংকে গ্রাহক হয়রানি, স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে ব্যাংক ঋণ প্রদান, ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের ক্যাশ ক্রেডিট লোন প্রদাণে উৎকোচ গ্রহণসহ এলাকায় গরীব-নিরীহ মানুষদের জমি দখল ও পুলিশী হয়রানি করে আসছেন। এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধিগ্রহণকৃত ৬ শতাংশ জমি পুনরায় মমিনুর হোসেন নামের এক ব্যক্তির নিকট জালিয়াতির মাধ্যমে বিক্রি করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছেন। প্রতিকার চেয়ে ঐ জমির একজন অংশীদার মোজাহার হোসেন মামলা দায়ের করেছেন আদালতে।
এলাকাবাসীদের মধ্যে জাকির হোসেন (৪৫), আবু মুসা (৩২) আহাদ আলী (৩৫) জানান, ব্যাংক ম্যানেজারের ভূমিদস্যুতা ও মিথ্যা হয়রানির কারণে কিশোরগঞ্জের মাগুড়া এলাকার তালপাড়া গ্রামের আবুল হোসেন, মোজাহার হোসেন, আকালীবেছা পাড়ার এনামুল হক, মোঃ ঝেল্লা, মিজানুর রহমান মিজা এখন সর্বস্বান্ত। এছাড়াও তিনি গত বছরের ২১ ডিসেম্বর সাঙ্গপাঙ্গ দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে রফিকুল ইসলাম মন্ডলের ৫ শতাংশ জমির সীমানা প্রাচীর ভেঙে দিয়ে রাতারাতি নতুন প্রাচীর নির্মাণ করে তা দখলে নেন।
তার বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে ক্ষিপ্ত এলাকাবাসী রংপুর বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন।
তারা আরো জানান, তার ভূমিদস্যুতার কারণে ভুক্তভোগীরা আদালতে একাধিক সিভিল মামলা দায়ের করেছেন।
এখন তিনি মামলা তুলে নিতে ভুক্তভোগীদের প্রাণনাশের হুমকিসহ পুলিশী হয়রানি করে সামাজিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন।
সোনালী ব্যাংকের কিশোরগঞ্জ শাখার গ্রাহক তৈয়ব আলী ( ৩৮) সুজন পাটোয়ারী (৪৭) জানান, ব্যাংক ম্যানেজার গ্রাহকদের সাথে খারাপ আচরণ করেন। সিসি ঋণের জন্য উৎকোচ দাবি করেন, টাকা দিতে রাজি না হলে তিনি নানা সমস্যা দেখিয়ে লোন বাতিল করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ব্যাংকটির একাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী জানান, তার আচরণে আমরা অতিষ্ঠ। ম্যানেজার বদলি না হওয়া পর্যন্ত আমাদের স্বস্তি নাই, আমরা কাজেকর্মে গতি পাচ্ছিনা।
এ ব্যাপারে কথা হলে অভিযুক্ত শরীফ হাসান মুরাদ জানান, আমার নামে আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ সঠিক নয়, আমি এলাকায় আমার মা ও খালাদের পৈতৃক জমি উদ্ধারের চেষ্টা করছি।
সোনালী ব্যাংক নীলফামারী শাখার ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) লুৎফুল হোসাইন জানান, ব্যাংকের নিয়মনীতি অনুযায়ী কোন কর্মচারীর সামাজিক অপরাধে জড়িত হওয়ার সুযোগ নেই। অভিযোগ পেলে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করবো।
রংপুর সোনালী ব্যাংক ভবনের জেনারেল ম্যানেজার
আমিনুল ইসলাম জানান, কিশোরগঞ্জ শাখার ম্যানেজারের বিরুদ্ধে গণস্বাক্ষর সম্বলিত লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অপরদিকে এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা ফেরাতে ব্যাংক ম্যানেজার শরীফ হাসান মুরাদ কে নিজ বিভাগের বাইরে বদলীর দাবি সংশ্লিষ্ট এলাকার সুধী সমাজের।
